• ভূতুড়ে ভোটার: ২ অফিসারের নামে এফআইআরের নির্দেশ
    বর্তমান | ০৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ময়না বিধানসভায় ভূতুড়ে ভোটার এন্ট্রির ঘটনায় এবার ইআরও এবং এইআরও-র বিরুদ্ধে এফআইআরের নির্দেশ পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় পৌঁছে গেল। ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসার তথা জেলাশাসক ইউনিস ঋষিণ ইসমাইলের কাছে তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর করার চিঠি পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এদিকে, সোমবারই সাসপেনশনে থাকা ময়নার ইআরও বিপ্লব সরকারের উপর থেকে সাসপেনশন প্রত্যাহার করেছে রাজ্য সরকার। পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার দুই ইআরও অর্থাৎ ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারের উপর থেকে সাসপেনশন প্রত্যাহার করে নিয়েছে রাজ্য। এই অবস্থায় কমিশনের এফআইআর করার নির্দেশ ঘিরে প্রশাসন কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই দেখার। সোমবার জেলাশাসক বলেন, এনিয়ে কোনও মন্তব্য করব না।

    ইআরও বিপ্লববাবু বলেন, সোমবার আমার সাসপেনশন প্রত্যাহার করা হয়েছে। এরমধ্যে ফের এফআইআরের নির্দেশ এসেছে। সরকার এনিয়ে কী করবে সেটা জানি না।

    প্রসঙ্গত, গত জুলা‌ই মাসে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ময়না ও নন্দকুমার বিধানসভায় ১৪১জন ভূতুড়ে ভোটার শনাক্ত করে নির্বাচন কমিশন। ময়না বিধানসভায় ৭৬জন এবং নন্দকুমার বিধানসভায় আরও ৬৫জন ভূতুড়ে ভোটারের নাম খুঁজে বের করা হয়। কমিশনের নির্দেশে সেইসব নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। তমলুক বিডিও অফিসে কর্মরত অফিসার ইন-চার্জ ইলেকশন তথা ময়নার এইআরও সুদীপ্ত দাস ওই ঘটনায় অভিযুক্ত বলে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করে প্রশাসন। জেলা প্রশাসনের তরফে তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী অফিসারের অফিসে ময়না ও নন্দকুমার বিধানসভার দুই ইআরওকে তলব করা হয়। শেষমেশ সুদীপ্ত দাসের পাশাপাশি ময়নার ইআরও বিপ্লববাবুকেও সাসপেন্ড করা হয়। নির্বাচন কমিশন তাঁদের বিরুদ্ধে রাজ্যকে এফআইআর করার নির্দেশ দিলেও সেই পথে না গিয়ে সাসপেনশন করে চ্যাপ্টার ক্লোজ করে দিয়েছিল রাজ্য। কিন্তু, ফের সেই ঘটনায় রাজ্যের চার ইআরও এবং এইআরও-র বিরুদ্ধে এফআইআরের নির্দেশ এসেছে। তারমধ্যে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ময়না বিধানসভার ইআরও বিপ্লববাবু এবং এইআরও সুদীপ্ত দাস আছেন।

    সম্প্রতি তমলুক ব্লকের পঞ্চায়েত ডেভেলপমেন্ট অফিসার তথা ময়নার এইআরও সুদীপ্তর বিরুদ্ধে ডিপার্টমেন্টাল প্রসিডিংস(ডিপি) করেছে রাজ্য। তদন্তকারী অফিসার ছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের অতিরিক্ত জেলাশাসক(ভূমি) বৈভব চৌধুরী। সেই তদন্ত শেষে রিপোর্টও পাঠানো হয়েছে। সুদীপ্তের বিরুদ্ধে সাসপেনশন প্রত্যাহার হয়নি। বরং ময়নার ইআরও-র উপর থেকে সোমবারই সাসপেনশন প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি জেলায় সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও মাদ্রাসা দপ্তরের অফিসার ছিলেন। ভূতুড়ে নাম ওঠার নেপথ্যে বিপ্লববাবুর প্রত্যক্ষ কোনও যোগ ছিল না বলে জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর। ময়না বিধানসভার ইআরও হিসেবে তাঁর লগইন আইডি এইআরও সুদীপ্তর কাছে ছিল। সেই আইডি ব্যবহার করে ভূতুড়ে নাম তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ।

    তমলুক ব্লকের অনন্তপুর-১ ও ২, নীলকুণ্ঠ্যা, শ্রীরামপুর-১ ও ২ গ্রাম পঞ্চায়েত ময়না বিধানসভার মধ্যে পড়ে। তাছাড়া, ওই ব্লকের বিষ্ণুবাড়-১, পদুমপুর-১ ও ২পঞ্চায়েত নন্দকুমার বিধানসভার মধ্যে পড়ে। তমলুক বিডিও অফিসে বসে অস্তিত্বহীন ভোটারদের নাম তালিকায় এন্ট্রি করা হয়েছিল। উত্তর ২৪পরগনার সোদপুর, মধ্যমগ্রাম, শ্যামনগর সহ বিভিন্ন জায়গার সাইবার কাফেতে ভুয়ো নথি আপলোড করে ময়না ও নন্দকুমার বিধানসভার ভোটার হিসেবে তালিকায় নাম তোলার আবেদন করা হয়েছিল। দ্রুত সেইসব আবেদন খতিয়ে দেখে নাম তোলা হয়ে গিয়েছিল।

    জেলা প্রশাসনের এক অফিসার বলেন, ময়না বিধানসভায় ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে জড়িত থাকা দুই অফিসারকে আগেই সাসপেন্ড করা হয়েছিল। এখন তাঁদের বিরুদ্ধে ফের এফআইআর করার নির্দেশ এসেছে।
  • Link to this news (বর্তমান)