সীমান্তের ৩ কিমি ভিতরে কাঁটাতার, রানিনগরে শস্য লুট বাংলাদেশিদের
বর্তমান | ০৬ জানুয়ারি ২০২৬
সংবাদদাতা, ডোমকল: বিএসএফ না থাকার সুযোগে রাতের অন্ধকারে কাঁটাতারহীন সীমান্তবর্তী জমির ফসল কেটে নিচ্ছে বাংলাদেশি দুষ্কৃতীরা। এই অভিযোগ রানিনগরের রাজানগর সহ আশেপাশের চাষিদের। তাঁদের অভিযোগ, বিএসএফ জিরো পয়েন্ট থেকে অনেক ভিতরে ডিউটি করে। ফলে সীমান্ত অসুরক্ষিত থেকে যায়। কাঁটাতারে বেড়া না থাকায় মাঝেমধ্যেই বাংলাদেশিদের অনুপ্রবেশ ঘটছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ইতিমধ্যেই রানিনগরের বাংলাদেশ সীমান্তে প্রায় ১৫ কিলোমিটার জুড়ে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার তোড়জোড় শুরু করেছে সরকার। তবে এতে রাজানগর সহ আশেপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের সীমান্তে জমি থাকা চাষিদের কার্যত ভাতে মারার বন্দোবস্ত হবে বলেই অভিযোগ। ওইসব এলাকার কৃষকদের দাবি, কাঁটাতারের বেড়া মৌরুশি ও তার আশপাশে তিন কিলোমিটারের বেশি ভেতর দিয়ে করার পরিকল্পনা হয়েছে। ওই লাইন ধরে কাঁটাতার দেওয়া হলে একেবারেই বাংলাদেশি দুষ্কৃতীদের দখলে চলে যাবে তাঁদের চাষের জমিগুলি। ইতিমধ্যেই পুরো বিষয় নিয়ে পুনরায় বিবেচনা করে সীমান্ত থেকে ১৫০ মিটারের কাছাকাছি কাঁটাতার দেওয়ার দাবি তুলে বিভিন্ন মহলে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা।
চাষিদের দাবি, কাঁটাতার দেওয়ার খবর শুনে স্বস্তি পেয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু যে ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কাঁটাতার লাগানোর পরিকল্পনা হয়েছে, তাতে মৌরুশি ও তার আশপাশের অংশে সীমান্ত থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার ভেতরে পর্যন্ত অরক্ষিত থেকে যাবে। চাষিদের দাবি, প্রস্তাবিত লাইন ধরে ফেন্সিং হয়ে গেলে ওপারের জমিগুলি পরিত্যক্ত হয়ে পড়বে। শেষ পর্যন্ত তাদের জমি পুরোপুরি ভাবে বাংলাদেশি দুষ্কৃতীদের দখলে চলে যাবে। এর ফলে ব্যাপক সমস্যায় পড়তে হবে তাঁদেরও। তাই তাঁদের দাবি, তিন কিলোমিটার ভেতরে ভারতীয় জমিতে নয়, ফেন্সিং হলে তা আন্তর্জাতিক আইন মেনে জিরো পয়েন্ট থেকে ১৫০ গজ ভিতরে করা হোক।
কানাই মণ্ডল নামে এক চাষি বলেন, গত কয়েক মাস ধরে দফায় দফায় আমার জমির ফসল নষ্ট করেছে বাংলাদেশিরা। কখনও কলাই কেটে নিয়েছে কখনও নষ্ট করে দিয়েছে খেতের সরষে। দিনকয়েক আগেও আমার জমির ফসল নষ্ট করেছে বাংলাদেশি দুষ্কৃতীরা। পুরো বিষয় নিয়ে একাধিকবার আমরা বিএসএফকে জানিয়েছি, তাতেও কাজ হয়নি। এমনকী থানায় পর্যন্ত অভিযোগ জানিয়েছে আমরা।
গোপীনাথ মণ্ডল নামের অপর এক চাষি বলেন, সীমান্তের ওই অংশে আমার প্রায় ১৬ বিঘা জমি আছে। শুনছি আমাদের জমি ওপারে রেখে আরও অনেকটা ভেতর দিয়ে ভারতীয় জমির মধ্যে দিয়ে কাঁটাতার লাগানো হবে। এর ফলে আমাদের জমি পুরোপুরিভাবে বাংলাদেশি দুষ্কৃতীদের দখলে চলে যাবে।
যদিও বিএসএফের এক আধিকারিক বলেন, সীমান্তের প্রায় ১৫ কিলোমিটারে কাছাকাছি কাঁটাতারে বেড়া নির্মাণের একটা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে শুনেছি। মূলত জাতীয় নিরাপত্তাকে মাথায় রেখেই ওই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আর নির্দিষ্ট দূরত্ব অন্তর অন্তর গেট থাকবে তা দিয়ে কৃষকরা নির্বিঘ্নে ওপারে যেতে পারবেন।
রানিনগর ২ ব্লকের বিএলএলআরও বিকাশ সরকার বলেন, ভারত সরকারের নির্দেশ অনুসারে জমি কেনার কাজ শুরু হয়েছে। ওই এলাকাটা যেমন ভাঙনপ্রবণ, তেমন ভীষণ সেনসিটিভ। একেবারে পদ্মার শাখা নদীগুলি জালের মতো বিছিয়ে রয়েছে। ওই জন্য কোথাও একেবারে সীমান্ত ঘেঁষে, আর কোথাও মূলত নদী থাকার কারণে ভাঙনের বিষয়টিকে মাথায় রেখে অনেকটা জমি ছেড়ে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। নিজস্ব চিত্র