সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: বয়সের গণ্ডি ৮৮ পেরিয়েছে। একটি চোখে একদমই দেখতে পান না। অন্য চোখের দৃষ্টিও ক্ষীণ। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম আছে। তারপরও তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কায় ভুগছেন নবদ্বীপ পুরসভার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রবীণ বাসিন্দা শিবরানি বন্দ্যোপাধ্যায়।
নবদ্বীপের তেঘরিপাড়ার বাসিন্দা ৮৮ ঊর্ধ্ব অসুস্থ বৃদ্ধা শিবরানি বন্দ্যোপাধ্যায়কে শুনানি কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য নোটিস করা হয়েছে। তাঁকে শুনানির জন্য ৭ জানুয়ারি নবদ্বীপ ব্লক অফিসে হাজির হতে বলা হয়েছে। অসুস্থ শরীর নিয়ে তিনি কীভাবে ভাগীরথী পেরিয়ে শুনানি কেন্দ্রে যাবেন, সেই নিয়ে চিন্তায় রয়েছে বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ৮৫ বছরের ঊর্ধ্বে বয়স্ক এবং অসুস্থদের বাড়িতেই শুনানি হবে। হিয়ারিংয়ের জন্য তাঁদের শুনানি কেন্দ্রে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। এদিকে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও অশীতিপর ওই বৃদ্ধাকে শুনানিতে হাজির হওয়ার জন্য নোটিস করা হয়েছে। নোটিস পেয়ে আতঙ্কে রয়েছেন বৃদ্ধা ও তাঁর পরিবারের লোকজন।
জানা গিয়েছে, শিবরানিদেবী ৮৪নম্বর বিধানসভার ভোট গ্রহণ কেন্দ্র স্থানীয় তেঘরিপাড়া বালিকা বিদ্যালয়ে ভোট দেন। তাঁর ক্রমিক নম্বর ২৩৩। পার্ট নম্বর ১৫১।
বৃদ্ধা শিবরানিদেবী বলেন, শুনানির নোটিস পেয়ে আতঙ্কে আছি। এখন এই বয়সে এসে আমাকে বৈধ ভোটার হওয়ার প্রমাণ দিতে হবে, ভাবতে পারিনি। জানি না, কী হবে। কমিশনের কাছে আবেদন, বাড়িতেই যেন আমার শুনানির ব্যবস্থা করা হয়। তালিকা থেকে আমার নাম যেন বাদ না পড়ে। বৃদ্ধার ছেলে শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ২০০২ সালের তালিকায় মায়ের নাম রয়েছে। তবুও কেন নোটিস এল, জানি না। তবে, গত রবিবার বিএলওর মাধ্যমে এইআরওর কাছে বাড়িতে শুনানির জন্য লিখিত আবেদন জানানো হয়েছে। দেখা যাক, কী হয়। চিন্তায় আছি। মা তো ঠিকমতো হাঁটাচলাও করতে পারেন না। এপ্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিএলও প্রশান্ত গুঁইয়ের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এব্যাপারে আমার কোনও বক্তব্য নেই। অফিসের আধিকারিকরা যেটা বলবেন, সেটাই হবে। এব্যাপারে ইআরও নবদ্বীপ অর্ণব চিন্যা বলেন, ৮৫ বছরের ঊর্ধ্বে যাঁদের বয়স, তাঁদের কাউকেই হিয়ারিংয়ে আসতে হবে না। আমরা তাঁদের বাড়িতে গিয়ে শুনানির কাজ করে নেব। তবে, তা এখনই হচ্ছে না। আমরা বিএলওদের মাধ্যমে বলেও দিচ্ছি। কিছুদিন পর ওঁদের বাড়ি গিয়ে হিয়ারিং করে নেওয়া হবে।