রাজমিস্ত্রি রাজুর মেজাজ বাদশাহি দৌড়বীর ঘোড়া কিনে নাম রেখেছেন সুলতান
বর্তমান | ০৬ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: দিন আনা দিন খাওয়া একটি পরিবারের পক্ষে ঘোড়া পোষার বিলাসিতা কম নয়। তবে শখ বলে কথা। তাই বারুইপুরে রাজু মণ্ডল নামে এক রাজমিস্ত্রি আস্ত একটি ঘোড়া কিনে ফেললেন। দাম নিল কড়কড়ে ৫০ হাজার টাকা। প্রাণীটি সকাল-দুপুর-রাত ২০০ গ্রাম করে ছোলা আর ভুষি খায়। মাঝে মধ্যে গুড় খায়। আর মাসছয়েক বাদে দৌড়তে নামবে প্রতিযোগিতায়। এখন ট্রেনিং চলছে।
বাংলায় একটি বহুল শব্দ অলংকার আছে। সেটি হল, ‘গরিবের ঘোড়া রোগ।’ এর অর্থ হল, সম্পদ ও আভিজাত্যের প্রতীক ঘোড়া কেনা গরিবের কম্ম নয়। তবে এই কথাটিকে ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছেন রাজু রাজমিস্ত্রি। ঘোড়াটি কিনে এখন কলারটা বেশ উঁচুই তাঁর। স্বস্তির কথা হল, তাঁর পরিবার এই শখপূরণে পাশে দাঁড়িয়েছে। ফলে রাজুর মুখে এখন সর্বদা খেলে চলে তৃপ্তির হাসি।
ছোট থেকেই ঘোড়দৌড় দেখার নেশা রাজুর। নিয়মিত ক্যানিং যেতেন প্রতিযোগিতা দেখতে। আর স্বপ্ন দেখতেন, একদিন নিজের একটি ঘোড়া হবে। সে রেসের ময়দানে নামবে। ফার্স্ট হবে। আর বুক ফুলিয়ে পুরস্কার নিয়ে বাড়ি ফিরবেন তিনি। এরপর স্বপ্নপূরণ হল। কয়েকটি বন্ধুর সহযোগিতায় হেস্টিংস গিয়ে ন’মাস বয়সি একটি ঘোড়া কিনে ফেললেন। নাম রাখলেন ‘সুলতান’। সেটির ধূসর রং। বর্তমানে দেড় বছর বয়স। এখন রোজ সকাল-বিকেল ট্রেনার আসছেন। হাঁটা, দৌড়, চলছে। এটাই ডেলি রুটিন ঘোড়াটির। রাজুবাবু বলেন, ‘শক্তি ও দম বাড়াতে উপযুক্ত ট্রেনিং হচ্ছে সুলতানের। সকালে পাঁচ কিলোমিটার হাঁটা। তারপর বিশ্রাম নিয়ে আবার হালকা দৌড়। খাওয়াদাওয়া একদম নিয়মমাফিক। দিতে হয় পর্যাপ্ত পরিমাণ জল। দু’বছর বয়স না হলে দৌড় প্রতিযোগিতায় নামানো যাবে না। তাই এখনও কিছুটা সময় রয়েছে।’ ফার্স্ট হওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের ট্রেনিং চলছে এখন। বারুইপুরের সাউথ গড়িয়া পঞ্চায়েতের মলঙ্গা গ্রামের মাঠে ভোরবেলায় সুলতানকে নিয়ে যান রাজুবাবু। এখন ঠান্ডা বেশি বলে কঠোর কসরত করানো হচ্ছে না। কারণ পেশীতে টান ধরতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে বাড়ানো হবে প্রশিক্ষণের মাত্রা। রাতে রাজুর এক বন্ধুর বাড়ির গোয়ালঘরে থাকে সুলতান। ‘গরিবের ঘোড়া রোগ’ ইত্যাদি সব নিন্দুকদের কথা। ইচ্ছে থাকলে সবই সম্ভব। তা ভেবে নিজের স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছেন রাজু। সঙ্গে দৌড়চ্ছে তাঁর ঘোড়া সুলতান।