বাসের দখলে হাওড়ার বঙ্কিম সেতু, বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা, সিন্ডিকেটের কবলে শহরের মূল বাসস্ট্যান্ড
বর্তমান | ০৬ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: একদিকে উত্তর হাওড়া, অন্যদিকে হাওড়া ময়দান, পাশাপাশি হাওড়া স্টেশন ও হাওড়া ব্রিজ— শহরের এই তিন গুরুত্বপূর্ণ এলাকাকে যুক্ত করেছে বঙ্কিম সেতু। অথচ সেই সেতুই এখন কার্যত অস্থায়ী বাসস্ট্যান্ডে পরিণত হয়েছে। সন্ধ্যা নামলেই শতাধিক বাসের দখলে চলে যাচ্ছে সেতুর সিংহভাগ। রাত থেকে ভোর পর্যন্ত সারি সারি বাস পার্কিংয়ের জেরে সেতু কার্যত সংকীর্ণ হয়ে পড়ছে। ফলে একদিকে যেমন সেতুর উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে, অন্যদিকে বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। হাওড়া ময়দান ও সংলগ্ন এলাকায় নিত্যদিনের যানজটের পিছনে মূলত এই বাস পার্কিংকেই দায়ী করছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ, প্রশাসনিক নজরদারির অভাবে শহরের মূল বাসস্ট্যান্ড বর্তমানে ইমারতী সামগ্রী রাখার জায়গায় পরিণত হয়েছে। হাওড়া সিটি পুলিশের মতে, জেলা প্রশাসন জনপ্রিয় জায়গায় স্থায়ী বাসস্ট্যান্ডের ব্যবস্থা না করলে গোটা এলাকা যানজট মুক্ত করা কার্যত অসম্ভব। বাস মালিকদের সংগঠন সূত্রে জানা গিয়েছে, করোনা পর্বের আগে পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস স্টেশন সংলগ্ন বাসস্ট্যান্ডে প্রায় ১০০টি বাস পার্কিং করা হত। বাকি বাসগুলি দাঁড়াত হাওড়ার মহাত্মী গান্ধী রোডে। পরবর্তীকালে হাওড়া পুরসভা বাসস্ট্যান্ড পরিচালনার দায়িত্ব জেলা প্রশাসনের হাতে তুলে দেয়। তারপর থেকেই ধীরে ধীরে নজরদারি শিথিল হতে শুরু করে বলে অভিযোগ।
বাস মালিকদের দাবি, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন লাগোয়া বাসস্ট্যান্ড এখন ইট, বালি, সিমেন্ট সহ বিভিন্ন ইমারতী সামগ্রী মজুতের জায়গায় পরিণত হয়েছে। সেখানে রমরমিয়ে চলছে সিন্ডিকেট ব্যবসা। অল বেঙ্গল বাস মিনিবাস সমন্বয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাহুল চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিস স্টেশন সংলগ্ন বাসস্ট্যান্ড সঠিকভাবে পরিচালনা করলে সরকারের রাজস্ব বাড়ত। কিন্তু এখন সেটি কার্যত বেওয়ারিশ অবস্থায় পড়ে রয়েছে।’ বাধ্য হয়েই ৭১ রুটের ৪২টি, ২৮ রুটের ৩০টি এবং সি রুটের প্রায় ৩৫টি বাস বঙ্কিম সেতুর উপর পার্কিং করে। সন্ধ্যার পর বঙ্গবাসী মোড় থেকে বঙ্কিম সেতু ধরে এগলেই হাওড়া স্টেশনের ক্যাব রোড পর্যন্ত দু’দিকে বাসের লম্বা সারি চোখে পড়ে।
আবার সেতুর উপর বেপরোয়াভাবে বাস ঘোরাতে গিয়ে মাঝেমধ্যেই অটো ও ছোট গাড়ির সঙ্গে দুর্ঘটনা ঘটছে। হাওড়া সিটি পুলিশের দাবি, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন লাগোয়া বাসস্ট্যান্ড সংস্কার করে আগের অবস্থায় ফেরানোর জন্য আগেই জেলাশাসকের কাছে আবেদন জানানো হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে কোনও অগ্রগতি হয়নি। যদিও জেলাশাসক পি দীপাপ প্রিয়া জানিয়েছেন, ‘ফায়ার সার্ভিস স্টেশন এলাকার বাসস্ট্যান্ডের আধুনিকীকরণ করা হবে। ইতিমধ্যেই সেই প্রস্তাব পরিবহণ দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।’ নিজস্ব চিত্র