• এসআইআরে প্রাপ্তির ঝুলি শূন্য! মোদির সভা ঘিরে তোড়জোড়
    বর্তমান | ০৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: এসআইআরের দ্বিতীয় ধাপেও সাংগঠনিকভাবে তেমন লাভ হয়নি বিজেপির। শুনানি পর্বে দলের অন্দরের বিশ্লেষণে এমন তথ্যই উঠে আসছে। কুড়িয়ে বাড়িয়ে কয়েকটি জায়গায় ক্যাম্প করলেও উল্টে মানুষের কাছে গালিই খেতে হয়েছে গেরুয়া শিবিরের কর্মীদের। হুগলির নেতাদের একাংশের অভিজ্ঞতা, শুনানি পর্বে সহায়তা ক্যাম্পগুলিকে সাধারণ মানুষ কার্যত এড়িয়ে গিয়েছেন। এ বিষয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে দলের হুগলি জেলার নেতৃত্বের। দলের অন্দরে এ নিয়েই চর্চা চলছে অনবরত। এমনকি, পদ্মপার্টির সক্রিয় কর্মীদের একাংশও ডাক পেয়েছেন শুনানিতে। স্বভাবতই গাল ফুলেছে তাঁদের। শুনানি নিয়ে তাঁদের তোপের মুখে পড়তে হয়েছে নেতৃত্বকে। সব মিলিয়ে পদ্মপার্টির অভিজ্ঞতা, এসআইআরের সুবিধা নেওয়া দূরের কথা, ঝাড়াই-বাছাইয়ের পর যে লিস্ট তৈরি হবে, তাতে বিজেপির ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনাই প্রবল।

    শাসকদলের নাক কাটা গিয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। কিন্তু পদ্মপার্টির যে আশাভঙ্গ হয়েছে, তা এখনই প্রকট। দলের অন্দর মহলের ক্ষোভ-বিক্ষোভ এবং চর্চা থেকে সেই ইঙ্গিতই মিলছে। এই অবস্থায় দলের কর্মীদের চাঙা করতে এখন প্রধানমন্ত্রীর হুগলি সফরকে খড়কুটোর মতো আঁকড়ে ধরতে চাইছেন বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলার নেতৃত্ব। প্রসঙ্গত, আগামী ১৮ জানুয়ারি সিঙ্গুরে সভা করবেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই সভাকে ঘিরে কর্মীদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা চলছে। অবশ্য তাতেও কতটা কাজ হবে, তা নিয়ে সংশয়ে অনেক নেতাই। যদিও বিজেপির হুগলির সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক সুরেশ সাউ বলেন, এসআইআর নির্বাচন কমিশনের কর্মসূচি। তার সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই। আমরা শুধু বলেছি, ভুয়ো ভোটার ধরতে হবে। ক্ষমতায় আসার আগে তৃণমূলও এই দাবিতে সরব ছিল। এখন তারা উলটো সুর গাইছে। এই প্রক্রিয়ায় ভুয়ো ভোটার বাদ গেলে বাংলায় তৃণমূলের অপশাসনের অবসান হবে। সেটা মানুষ বুঝেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সভা বরাবরই বিজেপি কর্মীদের অনুপ্রাণিত করে। এবারও তা হবে বলেই আমরা মনে করছি।

    এসআইআর নিয়ে শুরুতে সবচেয়ে বেশি উৎসাহিত ছিল বিজেপি। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, ওই পর্ব শুরু হওয়ার পর থেকে তার কোনও সুবিধা সরাসরি বিজেপি নিতে পারেনি। হুগলির মানুষের পাশে থাকার নিরিখেও পদ্মপার্টিকে টেক্কা দিয়েছে তৃণমূল। বিএলএ-২ নিয়োগ করে জনসংযোগের সুযোগ সাংগঠনিক ত্রুটির কারণে হাতছাড়া করেছে পদ্মপার্টি। শুনানি পর্বে কয়েকটি ক্যাম্প বিজেপি করেছে, কিন্তু তাতে লাভের লাভ কিছু হয়নি। কারণ, সাধারণ মানুষ বিজেপির ক্যাম্পে কেউ যেতেই চায়নি। সেখানেও বিজেপি’কে টেক্কা মেরেছে রাজ্যের শাসকদল। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক বিজেপির জেলাস্তরের এক শীর্ষ নেতা বলেন, শুনানির জন্য সহায়তা ক্যাম্প করে আমাদের কপালে শুধু পাবলিকের গালিই জুটেছে। দিনের শেষে আমাদের লাভের অঙ্ক কার্যত শূন্য। তার জেরেই আপাতত এসআইআর নয়, ভরসার নাম মোদি। 
  • Link to this news (বর্তমান)