• অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যুতে ডোমজুড়ের নার্সিংহোমে ভাঙচুর আত্মীয়দের
    বর্তমান | ০৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ ঘিরে ডোমজুড়ের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে উত্তেজনা ছড়াল। অন্তঃসত্ত্বা মহিলার মৃত্যুতে রবিবার গভীর রাতে ডোমজুড়ের কাটলিয়া এলাকায় পরিস্থিতি তপ্ত হয়ে ওঠে। ক্ষুব্ধ রোগীর পরিজনদের হামলায় নার্সিংহোমের একাংশ লন্ডভন্ড হয়ে যায় বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে ডোমজুড় থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেয়। মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

    মৃত মহিলার নাম মৌসুমী নস্কর (৩২)। তিনি ডোমজুড়েরই বাসিন্দা। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সকালে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বাকে কাটলিয়ার ওই নার্সিংহোমে ভরতি করা হয়। চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান ছিল, গর্ভস্থ সন্তান বেঁচে নেই। সেই কারণে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মৃত সন্তান প্রসব করানোর কথা জানানো হয় পরিবারকে। মৌসুমীর স্বামী ও পরিবারের দাবি, ভরতি হওয়ার সময় তাঁর শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক ছিল। এমনকি নিয়মমতো ওষুধ সেবন করছিলেন তিনি। পরিবারের অভিযোগ, সকালে একটি ওষুধ দেওয়ার পর থেকেই মৌসুমীর শরীরে অস্বাভাবিক কাঁপুনি শুরু হয়। সেই সময় পরিবারের লোকজন কম্বল দিতে চাইলে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ নাকি তা দিতে বাধা দেন। পরিবারের আরও দাবি, অস্ত্রোপচারের কথা বলা হলেও পরে নর্মাল ডেলিভারির মাধ্যমে মৃত সন্তান বের করার চেষ্টা করা হয়। সেই সময়ই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয় মৌসুমীর।

    মৃতার পরিবারের সদস্যরা জানান, পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হয়ে উঠলেও যথাসময়ে প্রয়োজনীয় রক্তের ব্যবস্থা নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ করতে পারেনি। উলটে বাইরে থেকে রক্ত আনতে বলা হয় তাঁদের। পরে হঠাৎ করেই নার্সিংহোম থেকে ফোন করে দ্রুত আসতে বলা হয়। সেখানে পৌঁছে তাঁরা জানতে পারেন, মৌসুমীর মৃত্যু হয়েছে। এই খবরে ক্ষোভে ফেটে পড়ে তাঁরা। নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, টেবিল-চেয়ার ও অন্যান্য আসবাব ভাঙচুর করা হয় ভিতরে। নার্সিংহোমের এক কর্তব্যরত নার্স শম্পা প্রামাণিক বলেন, ‘চিকিৎসায় অবহেলা হয়নি। চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী সব ওষুধই দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিট নাগাদ রোগীর মৃত্যু হয়।’ পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।  নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)