নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: বামনগাছি রেল ব্রিজকে ঘিরে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ প্রকাশ্যে এল বাস মালিকদের বিক্ষোভে। সোমবার সকালে অফিস টাইমে বামনগাছি রেল ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় প্রায় এক ঘণ্টা ধরে রাস্তা অবরোধ করেন বিভিন্ন রুটের বাস মালিকরা। এর জেরে বেনারস রোডে তীব্র যানজট তৈরি হয়। সকালেই চরম ভোগান্তিতে পড়েন অফিসযাত্রী থেকে স্কুলপড়ুয়ারা। পরে লিলুয়া ও মালিপাঁচঘড়া থানার পুলিশ পৌঁছে অবরোধকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসে। পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করা হলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়।
বাস মালিকদের অভিযোগ, প্রায় ৬ মাস ধরে বামনগাছি রেল ব্রিজে মেরামতির কাজ চলছে। এই সময়ে ব্রিজ দিয়ে বাস চলাচল কার্যত বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে চারটি গুরুত্বপূর্ণ রুটের বাসকে বিকল্প ও দীর্ঘ পথে ঘুরে চলতে হচ্ছে। এর ফলে যাত্রীসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে। বাস মালিকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তাঁদের আরও দাবি, বাস চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ভারী পণ্যবাহী লরি রাতের অন্ধকারে পুলিশের সহায়তায় ওই ব্রিজ ব্যবহার করছে। বারবার প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় বাধ্য হয়েই রাস্তায় নামতে হয়েছে বলে জানান অবরোধকারীরা। এদিন পুলিশের অনুরোধে সাময়িকভাবে আন্দোলন স্থগিত রাখা হলেও বাস মালিকরা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, দ্রুত মেরামতির কাজ শেষ করে বামনগাছি ব্রিজ দিয়ে বাস চলাচলের অনুমতি না দিলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন তাঁরা। হাওড়ার লিলুয়া-বামনগাছি রেল ব্রিজ দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল অবস্থায় রয়েছে। অতিরিক্ত ভার বহনে অক্ষম হওয়ায় আগস্ট মাসে এই ব্রিজের উপর দিয়ে বাস ও লরি চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ব্রিজের পাশেই রেল নতুন বিকল্প সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করলেও তা অত্যন্ত ধীরগতিতে এগোচ্ছে বলে অভিযোগ। বর্তমানে জগদীশপুর-হাওড়া স্টেশনগামী ৫৭-এ সরকারি বাস, কোনা হাই রোড-ধর্মতলা ১৮ রুটের মিনি, জগদীশপুর-ধর্মতলা ৩০ রুটের মিনি এবং ভট্টনগর-ধর্মতলা রুটের বাসগুলি বেলগাছিয়া থেকে চ্যাটার্জিপাড়া ও শৈলেন মান্না সরণি হয়ে ঘুরিয়ে চালানো হচ্ছে। কবে স্বাভাবিক হবে বাস চলাচল, জানেন না মালিকরা। নিজস্ব চিত্র