• সাড়ে ৪ লক্ষ নোটিস প্রত্যাহার কমিশনের, নথি থাকা সত্ত্বেও হয়নি আপলোড, ঘুরপথে ভুল স্বীকার
    বর্তমান | ০৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম ছিল। কিন্তু স্রেফ গাফিলতির জেরে সেই নথি বিএলও অ্যাপে আপলোড করা হয়নি। তার জেরে কয়েক লক্ষ মানুষ নো-ম্যাপ ভোটারের (২০০২ সালে নিজের বা আত্মীয়ের নাম না থাকার দলে) তালিকায় চলে গিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, তাঁদের নামে শুনানির নোটিসও ইস্যু হয়ে গিয়েছিল। ঘুরপথে হলেও অবশেষে সেই ‘ভুল’ স্বীকার করল কমিশন। তার ফল? সোমবার প্রত্যাহার হয়ে গেল জারি হওয়া প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষ শুনানির নোটিস। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই স্বস্তিতে বহু ভোটার। কাগজ থাকা সত্ত্বেও নতুন করে কীভাবে নিজের নাগরিকত্ব প্রমাণ করবেন, এতদিন সেই আতঙ্কেই ভুগছিলেন তাঁরা। 

    এসআইআর পর্ব শুরু হওয়ার আগে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে ২০২৫ সালের তালিকা লিঙ্ক করার কাজ শুরু হয়েছিল। এবং ২০০২ সালের তালিকায় থাকা ভোটারদের নাম আপলোডও করা হয়েছিল বিএলও অ্যাপে। কিন্তু পরে জানা যায়, সেই কাজে ব্যাপক ত্রুটি রয়ে গিয়েছে। শেষ এসআইআরের, অর্থাৎ ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও কয়েক লক্ষ ভোটারের নাম আপলোডই করা হয়নি। আর কমিশনের এই ভুলেই ভুগতে হয়েছে ভোটারদের। অ্যাপে তথ্য না থাকায় এই সব ভোটারকে খুঁজেই পাননি বুথ লেভেল অফিসাররা (বিএলও)। ফলস্বরূপ ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে তাঁদের সংযোগ স্থাপন করা যায়নি। তারা ‘নট ফাউন্ড’ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছিলেন। এবং পরবর্তীতে এই ভোটারদের নামে শুনানির নোটিসও ইস্যু হয়ে গিয়েছিল। এত কিছু হয়ে যাওয়ার পর শেষে ঘুম ভাঙে কমিশনের। 

    ক্রটি সামনে আসার পর রীতিমতো নির্দেশিকা জারি করে কমিশন জানায়, এই ধরনের ভোটারদের যদি শুনানির নোটিস দেওয়া হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে অবিলম্বে বিএলওরা ফোন করে তাঁদের শুনানিতে না আসার জন্য জানিয়ে দেবেন। আর যে নোটিস এখনও দেওয়া হয়নি, সেগুলি ইআরওদের কাছে রেখে দিতে হবে। এই ধরনের ভোটারদের খুঁজে বের করার পর ভোটারদের তরফে জমা পড়া নথি সংগ্রহও করতে হবে। সব শেষে ডিইওদের তত্ত্বাবধানে সেই নথি আপলোড করবেন ইআরওরা, যাতে ভোটারকে শুনানির সম্মুখীন না হতে হয়। সূত্রের খবর, চিহ্নিত এমন সাড়ে চার লক্ষ ভোটারের শুনানির নোটিসে স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছে। তাঁরাই ‘নট ফাউন্ড’ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছিলেন। আপাতত বিএলওদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এই ভোটারদের কাছ থেকে নথি সংগ্রহ করতে হবে। পাশাপাশি তাঁদের ছবি তুলে সংগৃহীত নথির সঙ্গে তা অ্যাপে আপলোড করতে হবে। তবে কমিশনের এই নয়া নির্দেশে কাজের চাপ অনেকটাই বেড়ে যাওয়ায় রীতিমতো বিরক্ত বিএলওরা। যাদবপুর বিধানসভার একটি বুথের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএলও তথা অংকের শিক্ষক প্রশান্ত চৌধুরী বলেন, ‘আগেই এবিষয়ে একাধিকবার ইআরওর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। তখন কোনও নির্দেশ দেওয়া হয়নি। এখন ভোটারদের পাশাপাশি আমাদেরও কমিশনের ভুলের খেসারত দিতে হচ্ছে।’ 
  • Link to this news (বর্তমান)