• ব্ল্যাকমেল করে একের পর এক যুবতীকে ধর্ষণ, ৫ বছরের ‘সম্পর্কে’ই পর্দা ফাঁস, আইটি কর্মীর নালিশে ধৃত গুণধর
    বর্তমান | ০৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে তরুণীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা। মোবাইল নম্বর আদানপ্রদান। আলাপ জমে উঠলেই, ডেটে যাওয়ার প্রস্তাব। সংশ্লিষ্ট তরুণীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে তাঁর সঙ্গে ‘ঘনিষ্ঠ’ হওয়া। ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে টাকা আদায় এবং ফের জবরদস্তি শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন। এভাবেই চলছিল একের পর তরুণীকে ধর্ষণ। শেষ পর্যন্ত বেহালার এক তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার ‘প্লে বয়’ অপ্রতীম বণিক। অভিযুক্তকে বাঙ্গুর অ্যাভিনিউ এলাকা থেকে ধরেছে বেহালা থানা।

    পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, বেহালার ওই তরুণীর সঙ্গে অভিযুক্ত যুবকের পরিচয় হয়েছিল ২০২১ সালে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটের মাধ্যমে। অপ্রতীম নিজেকে বড় ব্যবসায়ী বলে পরিচয় দেয়। মোবাইল নম্বর আদানপ্রদানের পর আইটি সেক্টরে কর্মরত সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার ওই তরুণী নিয়মিত কথা বলতেন। অভিযোগকারিনী প্রণয় ঘটিত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এরপর দুজন বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে যান। সেখানে ঘনিষ্ঠ হয় তাঁরা। এরপর দুজনে বেশ কিছুদিন লিভ ইন করে। এই পর্বে অপ্রতীম  জানায়, তাঁকেই বিয়ে করবে। তরুণীর কাছ থেকে নানা অছিলায় কয়েক দফায় পাঁচ লক্ষ টাকা হাতায় অভিযুক্ত। কিন্তু অভিযোগকারিনী বিয়ের কথা তুললেই এড়িয়ে যেত অপ্রতীম। এরই মাঝে তার লিভ ইন পার্টনার জানতে পারে, অপ্রতীম আরও এক তরুণীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছে। যা নিয়ে অশান্তি শুরু হয় দুজনের। অভিযুক্ত যুবক হুমকি দেয় ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের ছবি তার মোবাইলে ক্যামেরা বন্দি রয়েছে।  সম্পর্ক ছেড়ে বেরিয়ে যেতে চাইলে ওই ছবি ভাইরাল করে দেবে। তরুণী ভয় পেয়ে যান। এই সুযোগে  জোর করে শারীরিক সম্পর্ক করতে বাধ্য করে ওই যুবক। তরুণী বুঝতে পারেন ওই যুবক তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করছে। অন্য তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হচ্ছে তাঁকে এড়িয়ে। সারাক্ষণ কথা বলছে নতুন গার্ল ফ্রেন্ডের সঙ্গে।  পাঁচ বছরের সম্পর্ক ভেঙে অবশেষে নভেম্বর মাসের ১৬ তারিখে বেহালার তরুণী অভিযোগ করেন থানায়। তার ভিত্তিতে পুলিশ বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস ও ধর্ষণ এবং টাকা আদায় সহ একাধিক ধারায় কেস রুজু করে। দীর্ঘদিন ধরে অপ্রতীম পলাতক ছিল। রবিবার বাঙ্গুর অ্যাভিনিউ এলাকায় এক মহিলার সঙ্গে দেখা করতে  আসার খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে হাজির হয়। গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্তকে। পর্দা ফাঁস হয় গুণধরের। 

    অভিযুক্ত তদন্তকারীদের জানিয়েছে, ফেসবুকের মাধ্যমে তরুণীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করত। এরপর প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে তাঁদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতো। সেই ছবি মোবাইলবন্দি করে রাখত। কেউ সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলে, সোশ্যাল মিডিয়ায় তা ভাইরাল করার হুমকি দিত। এভাবে সে বহু তরুণীর ‘সর্বনাশ’ করেছে। ভয়ে কেউ অভিযোগ জানানোর সাহস পাননি। অভিযুক্তের মোবাইল ঘেঁটে একাধিক মহিলার নাম, ছবি ও ফোন নম্বর মিলেছে।  
  • Link to this news (বর্তমান)