নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কাজের টোপ দিয়ে বিহারের সীতামারিতে নিয়ে গিয়ে এক কিশোরীকে দেহ ব্যবসায় নামানোর অভিযোগ উঠেছে এক যুবতীর বিরুদ্ধে। চক্রের লোকজন বিভিন্ন হোটেলে কিশোরী-তরুণীদের নিয়ে গিয়ে বাধ্য করত অন্যের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করতে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে রবিবার রাতে ওই কিশোরীকে বিহার থেকে উদ্ধার করেছে চিৎপুর থানা। গ্রেপ্তার করা হয়েছে কিংপিন কৃতি সাউকে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চিৎপুরের বাসিন্দা ওই নাবালিকার প্রতিবেশী মহিলাই এই ঘটনায় অভিযুক্ত। পাশের বাড়ির কিশোরীকে সে বলে, সীতামারিতে ভালো কাজের সুযোগ রয়েছে। তার সঙ্গে গেলে বড়ো হোটেলে কাজ পাইয়ে দেবে। কাজের সুযোগের কথা ভেবে সে কয়েকদিন আগে কৃতির সঙ্গে সীতামারি যায়। তারপর আর ওই কিশোরীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি পরিবার। বাধ্য হয়েই পরিবারের তরফে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানো হয়। চিৎপুর থানা অপহরণের কেস রুজু করে।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, তাকে যে মহিলা নিয়ে গিয়েছিল, আদতে তার বাড়ি সীতামারিতেই। সেখানে সে নিয়মিত যাতায়াত করে। ওই নাবালিকাকে শুধু নয়, এর আগে বহু তরুণী ও কিশোরীকে কাজের লোভ দেখিয়ে সীতামারি নিয়ে গিয়েছে ওই মহিলা। তারা কেউ আর ফিরে আসেনি। খোঁজ করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে, কৃতি নামের ওই মহিলা কিশোরী ও তরুণীদের নিয়ে গিয়ে দেহ ব্যবসায় নামাচ্ছে। তাদের প্রথমে তোলা হয় বিভিন্ন হোটেলে। সেখানে বসেই খরিদ্দারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কৃতি। তারপর ‘ডিল ফাইনাল’ হলে ওই কিশোরী বা তরুণীকে পাঠিয়ে দেয় বিভিন্ন হোটেল বা বাড়িতে। মোবাইলের সূত্র ধরে জানা যায়, কৃতি সীতামারিতেই রয়েছে। চিৎপুর থানার টিম সেখানে পৌঁছে একটি হোটেল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। উদ্ধার হয় নাবালিকা।
ধৃত মহিলাকে জেরা করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়া পরিবারের কিশোরী বা তরুণীকে টার্গেট করত কৃতি। তাদের ভালো কাজের টোপ দিয়ে নিয়ে যেত সীতামারিতে। জানা গিয়েছে, কৃতি এসকর্ট সার্ভিস চালায়। তার কাছে বিভিন্ন খরিদ্দারের ফোন আসে। সেইমতো সে তরুণী বা কিশোরীদের পাঠিয়ে দিত। নারী পাচারের চক্র এই কাজে সক্রিয়। চক্রের অন্য মহিলারা তরুণী বা কিশোরীদের জোগাড় করে