আজকাল ওয়েবডেস্ক: কনকনে শীতের দাপটে জবুথবু হয়ে পড়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর-সহ দক্ষিণ বঙ্গের প্রতিটি জেলা। চলছে শীতের দাপুটে ব্যাটিং।
পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়গপুর শহর-সহ নারায়ণগড়, সবং, পিংলা ও দাঁতন এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ ঢাকা পড়েছে ঘন কুয়াশায়। মঙ্গলবার সকাল থেকেই কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় রাস্তাঘাট ও জনবসতি এলাকা।
ভোরের দিক থেকে দৃশ্যমানতা এতটাই কমে যায় যে জাতীয় সড়ক ও গ্রামীণ রাস্তায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। অনেক জায়গায় যানবাহন ধীরগতিতে চলতে বাধ্য হয়, ফলে নিত্যযাত্রীদের ভোগান্তি চরমে ওঠে।
একদিকে হাড় কাঁপানো ঠান্ডা, অন্যদিকে উত্তরের কনকনে হাওয়া। এই দুইয়ের যুগল বন্দিতে কার্যত কাবু গোটা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা।
শীতের প্রকোপে সকাল থেকেই রাস্তাঘাটে মানুষের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম চোখে পড়ছে। খোলা মাঠ, কৃষিজমি ও জলাশয়ের উপর ঘন কুয়াশার আস্তরণ পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
এই কনকনে ঠান্ডায় সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকায় চায়ের দোকানগুলিতে জমে উঠেছে আড্ডা। ঠান্ডা থেকে রেহাই পেতে অনেককেই কাঠ, খড় বা শুকনো পাতা জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা যাচ্ছে।
বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকাগুলিতে শীতের প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে। দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক ও খোলা আকাশের নীচে কাজ করা মানুষজন সমস্যায় পড়েছেন বেশি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, গত কয়েকদিনের তুলনায় মঙ্গলবার ঠান্ডার দাপট অনেকটাই বেড়েছে। উত্তরের হাওয়ার সঙ্গে ঘন কুয়াশা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে মত সাধারণ মানুষের।
অনেক প্রবীণ ও শিশুদের ক্ষেত্রে শীতজনিত সমস্যার আশঙ্কাও বাড়ছে। ফলে পরিবারগুলিকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে দেখা যাচ্ছে।
শীত ও কুয়াশার জেরে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত ব্যাহত হয়েছে। আবহাওয়ার এই পরিস্থিতি আগামী কয়েকদিন বজায় থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।