ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি কেন্দ্র নয়, দল চাইলে এবার বিধানসভায় শিলিগুড়ি কেন্দ্রে থেকেই ভোটে লড়াই করবেন শহরের মেয়র গৌতম দেব। আর ডাবগ্রাম ফুলবাড়িতে লড়তে পারেন ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকার। আসন্ন বিধানসভা ভোটে দুইজনই দাঁড়াতে পারেন বলে কিছুদিন ধরে দলের ভিতরে বাইরে জোর আলোচনা চলছে। শহরের বিভিন্ন স্তরে মেয়র কোন আসনে লড়বেন তা নিয়ে জোর চর্চা জারি রয়েছে।
সোমবার মেয়র জানিয়ে দিলেন, দল চাইলে তিনি শিলিগুড়ি থেকে লড়তে চান। নতুন সংযোজন, রঞ্জন ডাবগ্রাম ফুলবাড়ি থেকে প্রার্থী হতে পারেন। এদিন স্টেশন ফিডার রোডে দলের যুব সংগঠনের আয়োজিত একটি কর্মসূচিতে গৌতম দেব নেতা কর্মীদের শহর থেকে ভোটে লড়াই করার ইচ্ছের বিষয়টি জানিয়েছেন। মেয়র বলেন, ‘‘এটা পুরোটাই দলের বিষয়। দল চাইলে শিলিগুড়ি থেকে লড়ব। আর ডাবগ্রাম ফুলবাড়ি নিয়ে রঞ্জনের নামের প্রস্তাব থাকতে পারে। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত দলনেত্রী নেবেন।’’ ইতিমধ্যে শহরের ওয়ার্ডে প্রাতর্ভ্রমণও শুরু করে দিয়েছেন মেয়র। গত রবিবার ১১ নম্বরের পর সোমবার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে যান। দুটি ওয়ার্ডই বিজেপির দখলে রয়েছে। তিনি জানান, ভোটের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। শহরের দলীয় প্রতীকে প্রার্থী তো থাকবেই।
দলীয় সূত্রের খবর,, ২০২১ সালে দলনেত্রী এবং দলের ভোট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সংস্থা গৌতমকে শিলিগুড়ি কেন্দ্র থেকে লড়াই করার কথা বলেছিলেন। তিনি শেষ অবধি রাজি হননি। সেবার লোকসভার নিরিখে বিজেপি ডাবগ্রাম ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে ৮০ হাজারের বেশি ভোটে লিড পায়। কিন্তু ২০১১ এবং ২০১৬ সালে দুইবারের জেতা আসন ছেড়ে আসতে চাননি গৌতম। যদিও ৬০ হাজারের বেশি লিড কমিয়েও বিজেপি প্রার্থীর কাছে সাড়ে ২৭ হাজার ভোটে হেরে যান। এর পর শহরের মেয়র হন। গত কয়েক মাস ধরেই আলোচনা, তিনি কোন আসনে লড়বেন।
দলের নেতারা জানাচ্ছেন, গত ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে শিলিগুড়িতে সিপিএম থেকে এসে বিজেপির টিকিটে শঙ্কর ঘোষ সাড়ে ৩৫ হাজারের মত ভোটে তৃণমূলের ওমপ্রকাশ মিশ্রকে হারান। এর পরের বছর ২০২২ সালে গৌতম দেবের নেতৃত্বেই প্রথমবার ৩৭টি আসন জিতে পুরসভা দখল নেয় তৃণমূল। শহরের ভোটের শতাংশের হিসাবে পিছিয়ে পড়ে বিজেপি। সেই হিসাবে দলের শিলিগুড়িতে লড়াইয়ের জায়গা রয়েছে।
তবে শহরের একাংশ কাউন্সিলরের কাজকর্ম নিয়ে দলীয় স্তরে তো বটেই বাসিন্দাদের মধ্যেও ক্ষোভ হয়েছে। তাতে শহরের শাসক বিরোধী ভোটের আঁচও কম নয় তা তৃণমূল নেতারা জানেন। আবার অবাঙালিদের বড় অংশ গেরুয়া দলের সমর্থক। তাই অন্য কারও বদলে শিলিগুড়িতে গৌতম দেবকে প্রার্থী করলে লড়াই জায়গা তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে। আর তাই শহরের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে মানুষের বক্তব্য, অসন্তোষ বা ক্ষোভের বিষয়টি বুঝেই নিয়মিত বিভিন্ন ওয়ার্ডে যাতায়াত বাড়িয়ে দিয়েছেন মেয়র। সভা, মিটিং-র বদলে সরাসরি তিনি বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলছেন।