• এক মাসে আক্রান্ত ১৩ জন, শীতের মরসুমে চিন্তা বাড়াচ্ছে ডেঙ্গি
    এই সময় | ০৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: শীতেও ডেঙ্গির দাপট কমেনি বিধাননগরে। স্বাস্থ্য ভবন সূত্রের খবর, গত ডিসেম্বরে বিধাননগর এলাকায় ১৩ জনের ডেঙ্গি রিপোর্ট পজ়িটিভ এসেছে। বৃষ্টি না–হওয়া সত্ত্বেও এবং আবহাওয়া তুলনামূলক শুষ্ক থাকার পরেও ডেঙ্গির প্রকোপ না–কমায় উদ্বেগে বিধাননগর পুরনিগম।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, তাপমাত্রা কমলেও ডেঙ্গির বাহক এডিস ইজিপ্টাই মশার বংশবিস্তার পুরোপুরি থেমে যায় না। বিশেষ করে নির্মীয়মাণ আবাসন, ফাঁকা প্লট বা পরিত্যক্ত জলাধারে অল্প পরিমাণ জল জমে থাকলেই সেখানে এডিস মশার লার্ভা জন্মাতে পারে। বাড়ির ছাদ, প্লাস্টিকের ড্রাম, ভাঙা টব বা ফেলে রাখা পাত্রে জমে থাকা সামান্য জলই এই সময়ে সংক্রমণের প্রধান উৎস হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন পুরনিগমের স্বাস্থ্য বিভাগের আধিকারিকরা। সাধারণত তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রির নীচে নামলে মশার লার্ভা জন্মাতে পারে না। কিন্তু, কলকাতা বা লাগোয়া এলাকার বাতাসে যে ভাবে আর্দ্রতা বাড়ছে, তাতেই শীতের মরসুমে ডেঙ্গি হচ্ছে ব‍লে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    পতঙ্গবিদদের বক্তব্য, শীতে ডেঙ্গির গ্রাফ কিছুটা নামলেও তা নিশ্চিন্ত থাকার ইঙ্গিত নয়। পতঙ্গবিদ দেবাশিস বিশ্বাসের মতে, ‘বর্ষাকালে যেখানে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ বাড়িতে মশার লার্ভা পাওয়া যায়, শীতকালে তা কমে ১–২ শতাংশে দাঁড়ায়। কিন্তু ওই সামান্য লার্ভা থেকেই সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা থেকে যায়। তাই এই সময়েও নিয়মিত নজরদারি ও লার্ভা নষ্ট করা অত্যন্ত জরুরি।’

    এই পরিস্থিতিতে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিটি ওয়ার্ডে কড়া নজরদারি নির্দেশ দিয়েছে পুরনিগম। নির্মীয়মাণ আবাসন ও পরিত্যক্ত এলাকাগুলিতে বিশেষ নজর রাখার পাশাপাশি কোথাও জল জমে থাকছে কি না, তা নিয়মিত খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে জঞ্জাল সাফাই এবং স্বাস্থ্য বিভাগের কর্তাদের। পতঙ্গবিদদের মতে, শীতকালেও সচেতনতা ও নিয়মিত অভিযান চালানোই ডেঙ্গি রোখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। বিধা‍ননগর পুরনিগমের মেয়র পারিষদ (স্বাস্থ্য) বাণীব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘শীতকালে ডেঙ্গি হবে না এটা অনেকেই মনে করেন। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। সে কারণেই আমাদের তরফে কড়া নজরদারি যেমন চা‍লানো হচ্ছে, তেমনই বাসিন্দাদের অনুরোধ করব, সকলে সতর্ক থাকুন।’

  • Link to this news (এই সময়)