• কাজে গিয়ে কাশ্মীরে ‘বন্দি’ পাঁচ শ্রমিক, দাবি ‘মুক্তিপণ’
    এই সময় | ০৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়, আসানসোল: তুষারঝড়, অসহনীয় ঠান্ডা আর মৃত্যুভয়ের মধ্যে কাশ্মীরে কার্যত বন্দি আসানসোলের চিত্তরঞ্জন রেলশহর সংলগ্ন ঝাড়খণ্ডের মিহিজামের পাঁচ শ্রমিক। কাজের প্রলোভন দেখিয়ে কাশ্মীরে নিয়ে গিয়ে তাঁদের আটকে রাখার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। বাড়ি ফিরতে চাইলে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। টাকা না-দিলে প্রাণে মারার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি শ্রমিকদের পরিবারের। অভিযোগ, কাশ্মীরে টানা তুষারপাতের জেরে কাজ বন্ধ হয়ে গেলেও শ্রমিকদের ফিরতে দেওয়া ও খাবারও দেওয়া হচ্ছে না।

    পাঁচ শ্রমিক রবি মুশাহর, দিলীপ বাউড়ি, শিবা দাস, ভোলা তুরি এবং সিকান্দার তুরিদের বাড়ি মিহিজামের কৃষ্ণনগর ৫ নম্বর রোড এবং রেলপার গান্ধীনগর এলাকায়। তাঁরা একটি ভিডিয়ো বার্তায় ঝাড়খণ্ড সরকার ও মিহিজাম প্রশাসনের কাছে আকুতি জানিয়েছেন, যেন দ্রুত তাঁদের বাড়ি ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়। শ্রমিকদের দাবি, মাসখানেক আগে ঝাড়খণ্ডের দুমকার বিজয় মির্ধা ও মালিক মির্ধা এবং আরও এক ঠিকাদার কাজের প্রলোভন দেখিয়ে তাঁদের কাশ্মীরে নিয়ে যান। রাস্তার ধারে সেতু ও পাথরের দেওয়াল তৈরির কাজে লাগানো হয় তাঁদের।

    ভয়ের পরিবেশে তাঁরা স্থানীয় প্রশাসনের কাছেও অভিযোগ জানাতে পারেননি। তাঁদের দাবি, মিহিজামের সামাজিক সংগঠন ও ঝাড়খণ্ড প্রশাসন দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে তাঁদের ঘরে ফেরানোর ব্যবস্থা করুক। তবে যাঁদের নাম ঠিকাদার হিসেবে শ্রমিকরা উল্লেখ করেছেন, তাঁদের সঙ্গে এই বিষয়ে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের ফোন নম্বর দিতেও ভয়ে রাজি হননি শ্রমিকরা। সোমবার শিবা দাসের মা সোনিয়া দেবী বলেন, 'শিবার হাতে আগেই চোট ছিল। আমি যেতে বারণ করেছিলাম। তখন বলা হয়েছিল অসুবিধে হলে ছেলেকে ফিরিয়ে দেবে। কিন্তু এখন বলছে, প্রত্যেককে ৪০-৫০ হাজার টাকা দিতে হবে, না-হলে ছাড়া হবে না। এমনকী মেরে ফেলার হুমকিও দিচ্ছে।' মিহিজাম কলেজের অধ্যাপক তথা ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার জেলা সহ-সভাপতি কৈলাস ছাও বলেন, 'মিহিজাম থানার পুলিশের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে কোনও ভাবে ওঁদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা যায়।'

  • Link to this news (এই সময়)