শিলিগুড়িতে ব্যাঙ্কের ভিতর ভয়াবহ দুর্ঘটনা। নিরাপত্তারক্ষীর বন্দুক মাটিতে পড়ে গিয়ে ছিটকে এল গুলি। গুলিবিদ্ধ শিশু-সহ অন্তত পাঁচ জন। মঙ্গলবার সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার বিধাননগর শাখার ঘটনা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এদিন দুপুরে রোজকার মতোই ব্যাঙ্কের ভিতর স্বাভাবিক কাজকর্ম চলছিল। কেউ টাকা তোলার কাজে ব্যস্ত, কেউ আবার টাকা জমা দিতে এসেছেন। কেউ পাসবই আপডেট করাচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময়ই আচমকা বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে ব্যাঙ্ক চত্বর। স্থানীয় সূত্রে খবর, ব্যাঙ্কে কর্মরত এক নিরাপত্তারক্ষীর বন্দুক অসাবধানতাবশত মেঝেতে পড়ে যায়। সেই সময়ই বন্দুক থেকে গুলি বেরিয়ে যায় বলে অনুমান। গুলিতে শিশু-সহ পাঁচ জন জখম হন। মুহূর্তের মধ্যে ব্যাঙ্কের ভিতর চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয়ে যায়। আতঙ্কে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন গ্রাহকেরা। কীভাবে বা গুলি চালাল তা প্রথমে কেউ ঠাউরই করতে পারেননি।
গুলির শব্দ শুনে ব্যাঙ্কের বাইরে থাকা স্থানীয়রাও ছুটে আসেন। গোটা পরিস্থিতি বুঝে সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় বিধাননগর পুলিশ ফাঁড়িতে। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহত পাঁচ জনকে দ্রুত উদ্ধার করে বিধাননগর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর সকলকেই উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
বিধাননগর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত চিকিৎসক বিশ্বজিৎ দত্ত জানান, 'পাঁচ জনের শরীরেই গুলি লেগেছে। সকলকেই উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়েছে। জখমদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। দু’জন মহিলা এবং দু’জন পুরুষ জখম হয়েছেন। সকলের পায়েই গুলি লেগেছে।'
গুলিবিদ্ধদের মধ্যে রয়েছেন মহম্মদ নুরুল হক। ব্যাঙ্কের কাজে গিয়েই এই দুর্ঘটনার শিকার হন। তাঁর ভাই জাহিরুল হক বলেন, 'দাদা ব্যাঙ্কে গিয়েছিল। পরে ফোন আসে যে ওর গুলি লেগেছে। কীভাবে এই গুলি লাগল, তা এখনও পরিষ্কার নয়। উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে দাদার চিকিৎসা চলছে।'
ঘটনার পর ব্যাঙ্ক চত্বরে পৌঁছন পুলিশ আধিকারিকেরা। নকশালবাড়ির এসডিপিও সৌম্যজিৎ রায় জানান, প্রাথমিক ভাবে অনুমান করা হচ্ছে নিরাপত্তারক্ষীর বন্দুক মাটিতে পড়েই গুলি চলেছে। তিনি বলেন, 'আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে।'
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগ্নেয়াস্ত্র মাটিতে পড়ে গেলে অনেক সময় দুর্ঘটনাবশত গুলি বেরিয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে যদি বন্দুকের সেফটি লক ঠিক ভাবে লাগানো না থাকে, বা ভিতরে চেম্বারে গুলি লোড করা অবস্থায় থাকে, তা হলে আঘাতের ধাক্কায় ট্রিগার সক্রিয় হয়ে যেতে পারে। এমন ঘটনাকে ‘অ্যাক্সিডেন্টাল ডিসচার্জ’ বলা হয়। তবে এই ধরনের পরিস্থিতি সাধারণত প্রশিক্ষণ ও সতর্কতা মেনে চললে এড়ানো সম্ভব।