• বিজেপিকে ভোকাট্টা করার ডাক অভিষেকের, কপ্টার কাণ্ডেও বিঁধলেন গেরুয়া শিবিরকে
    বর্তমান | ০৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, রামপুরহাট: পূর্ব নির্ধারিত সভা। কিন্তু অভিযোগ, কেন্দ্রের অঙ্গুলিহেলনে সঠিক সময়ে বীরভূমের রামপুরহাটে পৌঁছোতে পারলেন না তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে দেরিতে হলেও সভাস্থলে পৌঁছে নিজের কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন অভিষেক। আর সেই সভাস্থল থেকেই কেন্দ্র তথা বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন তৃণমূলের সেনাপতি। অভিষেক আজ, মঙ্গলবার বলেছেন, ‘ভোট ঘোষণা হয়নি, তার আগেই বিজেপির চক্রান্ত শুরু হয়ে গিয়েছে। যদিও বিজেপির চক্রান্ত সফল হয়নি। বিজেপির থেকে ১০ গুণ বেশি জেদ আমার। দেরিতে হলেও সভাস্থলে পৌঁছেছি।’কিন্তু কেন এই কথা বলেছেন তৃণমূল সাংসদ। আসলে, এদিন বেহালা ফ্লাইং ক্লাব থেকে রামপুরহাটের সভাস্থলে কপ্টারে যাওয়ার কথা ছিল অভিষেকের। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও ডিজিসিএ-র তরফে অভিষেকের কপ্টারের ওড়ার অনুমতি মেলেনি। বেহালা ফ্লাইং ক্লাবেই দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখা হয় তৃণমূল সাংসদকে। তারপরে অভিষেক নিজে যোগাযোগ করেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সঙ্গে। পরে তাঁর কপ্টার নিয়ে রামপুরহাটের জনসভায় যান তৃণমূল নেতা।সেই জনসভা থেকে অভিষেক বলেন, ‘২০২১ সালে বিজেপি হারে। আজ পর্যন্ত বাংলার বকেয়া পাওনা ২ লক্ষ কোটি টাকা। বাংলার ২ কোটি ৭৪ লক্ষ জব কার্ড হোল্ডার। তাঁদের জীবন নির্ভর করে একশো দিনের কাজে। গরিবের আবাসের বাড়ির টাকা বন্ধ। সর্বশিক্ষা মিশনের টাকা বন্ধ। আগামী নির্বাচনে বিজেপির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বন্ধ করে যে কটা ছাইপাশ পড়ে আছে, তাঁদের বিদায় করতে হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিতলে বাংলার ১০ কোটি মানুষ শান্তিতে থাকবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ণ থাকবে। তৃণমূল জিতলে দু’মুঠো ভাত আর বিরোধীরা কুপোকাত। বিজেপি জিতলে ধর্মে ধর্মে আঘাত আর বিভাজন, অন্তর্ঘাত। যারা এসআইআরের নামে বাংলাকে অপমান করেছেন, আগামী নির্বাচনে তাঁদের যোগ্য জবাব দেওয়ার লড়াই।’অভিষেক এদিন বীরভূম জেলার তৃণমূল নেতাদের টার্গেট বেঁধে দেন। ১১টির মধ্যে ১১টি আসনে জেতার লক্ষ্য স্থির করে দিয়েছেন তিনি। সঙ্গে বীরভূমের সব বুথেই বিজেপিকে হারানোর নির্দেশ দিয়েছেন অভিষেক। তিনি আরও বলেন, ‘এই মাটিতে একাধিক শক্তিপীঠ রয়েছে। শান্তিনিকেতনে গিয়ে কবিগুরুর নাম ফলক থেকে বাদ দিয়েছে। বাংলার মানুষকে শুধু ভাতে মারতে চায় না। তাঁর ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র, বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। বীরভূমে ৩,৬০০ বুথ থেকে বিজেপিকে ভোকাট্টা করতে হবে।’ এদিন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক আগামী বিধানসভার নির্বাচনে তৃণমূলকে ২৫০ আসন জেতানোর টার্গেট বেঁধে দিয়েছেন।  
  • Link to this news (বর্তমান)