• ‘বাংলা বিরোধীদের চক্রান্ত’ রামপুরহাট থেকে বিজেপিকে নিশানা অভিষেকের
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘নির্বাচন শুরু হয়নি, দিনক্ষণ ঘোষণা হয়নি। এসআইআরের মধ্যে দিয়ে সবে ভোটের দামামা বেজেছে। তার আগে থেকে বাংলা বিরোধী জমিদারদের চক্রান্ত শুরু হয়েছে। আমার হেলিকপ্টার সকাল ১১টায় ওড়ার অনুমতি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দেয়নি। আমারও ১০ গুণ জেদ। আমি মাঝে  ভেবেছিলাম, গাড়িতে আসব। ৫ ঘণ্টার রাস্তা। আমি বুদ্ধি খাটিয়ে পাশের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সঙ্গে কথা বলে তাঁর কপ্টার আনালাম। তারপর তাতে চড়ে এলাম। তাই ২ ঘণ্টা দেরি হল। তবে জেদ থেকে সরিনি। বলেছিলাম, যত দেরি হোক, যাবই। ধমকানি, চমকানি, ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত দিয়ে আটকানো যাবে না। মাথা নত করব না।‘

    এরপরই এসআইআর ইস্যুতে কমিশন-বিজেপিকে এক বন্ধনীতে রেখে অভিষেক বলেন, ‘অমর্ত্য সেন, যিনি এ দেশের নাম বিশ্বের দরবারে চিনিয়েছেন, তাঁকেও এসআইআর এর নোটিস পাঠিয়েছে! অভিনেতা দেবকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। মহম্মদ শামি— যে বিশ্বকাপে দেশকে গর্বিত করেছে — তাকেও নোটিস দিয়ে আনম্যাপড করার চেষ্টা চলছে।‘

    এরপরেই হুঁশিয়ারির সুরে অভিষেকের আহ্বান , ‘যাঁদের আনম্যাপড করতে চাইছে, গণতন্ত্রের নামে এই খেলায় সায় দেবেন না। এবারের ভোটে এদের ঝেঁটিয়ে বিদায় করুন।‘

    অভিষেকের দাবি, বিশেষ নিবিড় সংশোধনের নামে ভোটার তালিকা থেকে ‘পরিকল্পিতভাবে’ নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাঁর কটাক্ষ, “এরা ভেবেছে ভয় দেখিয়ে, নোটিস দিয়ে মানুষকে সরিয়ে দেবে। কিন্তু বাংলার মানুষ সব দেখছে।”

    রামপুরহাটের সভামঞ্চ থেকে অভিষেকের হুঁশিয়ারি, ‘চক্রান্ত যত বাড়বে, মানুষের লড়াই তত দৃঢ় হবে। বাংলার মানুষ জবাব দেবে ভোটবাক্সে। গতবারের চেয়ে এবারে তৃণমূলের আসন সংখ্যা এবং ভোট শতাংশ দুটোই বাড়বে।‘

    সোনালি বিবির প্রসঙ্গ টেনে, অভিষেক বলেন, ‘এই মাটির একজন মেয়ে সোনালি খাতুন। জোর জবরদস্তি তাঁকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছিল কেন্দ্র। হাইকোর্ট, সুপ্রিমকোর্টে লড়াই করে তৃণমূলের সৈনিকরা তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে। গতকাল ও একটা ফুটফুটে সন্তানের জন্ম দিয়েছে। আজ আমি রামপুরহাটে দেখতে যাব।‘

    বিধানসভা ভোটের আগে মাসজুড়ে ‘আবার জিতবে বাংলা’ কর্মসূচিতে জেলায় জেলায় ঘুরছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।  মঙ্গলবার বীরভূমে সভা-সহ একাধিক কর্মসূচি ছিল তাঁর। কথা ছিল, বেলা ১২ টায় বেহালা ফ্লাইং ক্লাব থেকে চপারে রামপুরহাট উড়ে যাবেন তিনি। তাঁর কপ্টার ওড়ার অনুমতি দেয়নি ডিজিসিএ। পরে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের কপ্টার আনিয়ে বীরভূম উড়ে যান অভিষেক। দুপুর দেড়টার বদলে ৩টে ৩৬ মিনিট থেকে সভা শুরু হয়।

    এদিন অভিষেকের সভায় ছিলেন তৃণমূলের বীরভূমের নেতা অনুব্রত মণ্ডল। তাঁর প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বলেন, ‘কেষ্টদা গতকাল মায়ের (তারপীঠ) কাছে বলে এসেছে ২৩০টা আসন দিতে হবে। আমি তো আরও ২০টা বাড়িয়ে বলব মা, এবারে ২৫০টা আসন দিতে। যে দল গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে একজন চিকেন প্যাটিস বিক্রেতাকে মারধর করে তাদের ভোটবাস্কে যোগ্য জবাব দিতেই হবে।‘

    উল্লেখ্য, কপ্টার সংস্থার লাইসেন্সে সমস্যার জন্য গত ২৫ নভেম্বর এসআইআর বিরোধী কর্মসূচিতে যোগ দিতে হেলিকপ্টারের পরিবর্তে সড়কপথে বনগাঁ যান মমতা। এসআইআর-বিরোধী সভায় বক্তৃতার শুরুতেই ওই বিষয়ে মুখ খুলেছিলেন তিনি। বিজেপিকে তোপ দেগে বলেছিলেন, ‘আমি সাত-আট মাস হেলিকপ্টার ব্যবহার করি না। চুক্তি  করে একটা হেলিকপ্টার নেওয়া আছে রাজ্য সরকারের। সকালে বলল যাবে না। বেরোনোর কথা ছিল ১২টায়। সভা  ছিল সাড়ে ১২টায়। ইলেকশনই শুরু হল না সংঘাত শুরু হয়ে গেল।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)