জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: 'এক ছটাক জমি ছাড়ব না'। ছাব্বিশে বিধানসভা ভোটে এবার টার্গেট বেঁধে দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রামপুরহাটের সভায় বললেন, 'আড়াইশো আসনে জেতাতে হবে তৃণমূলকে। মা তারাকে বলব। যে দল ৭০টি আসন নিয়ে গরিব ছেলেকে চিকেন প্যাটিস বিক্রি করছে বলে মারধর করেছে, এরা ক্ষমতায় এলে বাংলার কী অবস্থা করবে, ভেবে দেখুন। গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে কে ডিমের ঝোল খাবে, কে এগরোল খাবে, কে মাছের ঝোল খাবে, ঠিক করছে বিজেপির দিল্লির নেতারা। এদের শূন্য করতে হবে'।
বিধানসভা ভোটের প্রচারে এবার বীরভূমে অভিষেক। রামপুরহাটে সভামঞ্চে শতাব্দী রায়, অনুব্রত মণ্ডল, কাজল শেখের মতো জেলার প্রথমসারির তৃণমূল নেতা, মন্ত্রী, সাংসদরা। অভিষেক বলেন, 'যতই SIR আর ষড়যন্ত্র করুক। আরও আসন পেয়ে তৃণমূল কংগ্রেস শক্তিশালী হবে। ভেবেছে ধমকে চমকে চোখ রাঙিয়ে টাকা আটকে শিক্ষা দেবে। এই বিজেপি লক্ষ্মীর ভান্ডার বন্ধ করতে চায়। কেন্দ্র টাকা বন্ধ করে রেখেছে। আগামীদিনে বিজেপির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বন্ধ করতে হবে। SIR করে শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা করে ডাকছে। হায় রে পোড়া কপাল অর্মত্য সেনকে হিয়ারিংয়ে ডেকে পাঠানো হয়েছে। যে নোবেল পেয়েছে, দেশকে চিনিয়েছে সম্মান দিয়েছে তাকে নোটিশ দিয়েছে। দেব, ক্রিকেটার সামিকে নোটিশ দিয়েছে'।
অভিষেকের আরও বক্তব্য. 'বিজেপির ধ্রুব সাহা বীরভূমের চিট ফান্ড কেসে অভিযুক্ত। সুনীল সোরেন তিনি মহিলা নির্যাতন কেসে অভিযুক্ত। ন্ন্যাসী চরণ মন্ডলের নামে, জগন্নাথ চ্যাটার্জির নামে লিখিত অভিযোগ করছেন বিজেপির কর্মীরা'। তাঁর সাফ কথা, 'বিজেপির খালি ভাঁওতা। বড় বড় ভাষণবাজি। আগামী ভোট তথ্যর নিরিখে হবে। কত পয়সা ওরা দিয়েছে আর আমরা কি কাজ করেছি। তার প্রমাণ করে দেব। কেন্দ্রের বকেয়া প্রতি বুথে ২৫০০ কোটি টাকার, কাজ করতে পারব'।
বাদ যায়নি বীরভূমের ভূমিকন্যা সোনালি খাতুনের প্রসঙ্গ। অভিষেক বলেন, 'এই মাটির মেয়ে সোনালি খাতুনকে বাংলাদেশি দেগে বাংলাদেশে পাঠিয়েছিল। আমরা আইনত লড়াই করে ফিরিয়ে এনেছি। হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বাংলা ভাষাকে বাংলাদেশি বলছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে সান্যাল বলছেন। নিজের প্রচারে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম বাদ দিয়ে দিয়েছিল। ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র। বাংলাদেশী বানানোর ষড়যন্ত্র করেছে'। স্পষ্ট বার্তা. 'বীরভূমের ৩৬০০ বুথ থেকেই বিজেপিকে ভোকাট্টা করতে হবে। একটা বুথ থেকেও যেন মাথা তুলতে না পারে। প্রধানমন্ত্রী এসে বাংলার মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে। আপনাদের পাল্টা হুংকার দিতে হবে। মানব না হার আবার দিদির সরকার'।
অভিষেক বলেন, 'SIR-র নোটিশ পেলেই আমাদের ক্যাম্পে যাবেন। আমরা ব্যবস্থা করব। যাতে কারও নাম না কাটা যায় সেতা আমরা সুনিশ্চিত করব। সোনালি খাতুনের বাবা-মায়ের নাম আছে ২০০২ সালের ভোটার লিস্টে। তারপরেও সোনালিকে বাংলাদেশি বলেছে। যারা SIR করে নাম বাদ দিতে চাইছে। তাদের গণতান্ত্রিক ভাবে ১১-০ করতে হবে এই জেলায়। এক ছটাক জমি ছাড়ব না। যে বুথে ৫০ লিড ছিল সেখানে ৫১, সেখানে ১০০ ছিল সেখানে ১১০, যেখানে ৩০০ ছিল সেখানে ৪০০ করতে হবে বুথ পিছু'।