• 'তোরা বাংলাদেশি, এখানে এসে চুরি-চামারি করিস', রায়পুরে পুরুলিয়ার ৮ শ্রমিককে বেধড়ক মার বজরং কর্মীদের
    ২৪ ঘন্টা | ০৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • মনোরঞ্জন মিশ্র: বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি! পুরুলিয়া থেকে ছত্তীসগঢ়ে কাজে গিয়ে বজরং দলের কর্মীদের হয়ে বেধড়ক মার খেলেন বাংলার ৮ পরিযায়ী শ্রমিক। এদের চারজন নাবালক হলেও হামলা থেকে রক্ষা পায়নি। ওই চার নাবালককে আবার আটকে রাখা হয়েছে ছাত্তীসগঢ়ের এক হোমে।

    ছত্তীসগঢ়ের রায়পুরে কাজে গিয়েছিলেন পুরুলিয়া মফস্বল থানার চেপড়ি গ্রামের বাসিন্দা শেখ আসলাম, শেখ রবি, শেখ জুলফিকার, শেখ সাহিল। তাদের সঙ্গে গিয়েছিলেন তেঁতলো গ্রামের আরবাজ কাজি, আড়ষা থানার ভুরসু গ্রামের শেখ মিনাল ও শেখ ইসমাইল। তাঁরা কাজ করতেন রায়পুরের এক পাঁউরুটি কারখানায়। 

    নিগৃহীত শ্রমিকদের অভিযোগ, রবিবার বেতন দেওয়া নিয়ে কারখানার মালিকের সঙ্গে তাদের গোলমাল  হয়। তার পরই আচমকা কারখানায় চলে আগে স্থানীয় বজরং দলের সদস্যরা। ওইসব শ্রমিকরা বাংলায় কথা বলছিলেন। তাতেই বজরং দলের দাবি, ওই বাঙালি ৮ শ্রমিক বাংলাদেশের বাসিন্দা। এনিয়ে প্রবল মারধর করা হয় তাদের। খবর পেয়ে কারখানায় ছুটে আসে স্থানীয় থানার পুলিস। উদ্ধার করা হয় ওই আটজনকে।

    ওই ঘটনার পর ছত্তীসগঢ় পুলিস যোগাযোগ করে পুরুলিয়া জেলা পুলিসের সঙ্গে। ওইসব শ্রমিকদের নথি পেয়ে শেষপর্যন্ত ৪ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু বাকী চারজন নাবালক হওয়ায় তাদের হোমে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আজ ওই ৪ জন গ্রামে ফিরলেন। এখন তারা বাইরে কাজে যেতেই চাইছেন না।

    পরিযায়ী শ্রমিক শেখ রবি  বলেন, টাকার জন্য ছত্তীসগঢ়ে কাজ করতে গিয়েছিলাম। ওখানে আমাদের বাংলাদেশি বলে মারধর করা হয়। এখন বাইরে কাজ করতে যেতেই ভয় লাগছে। আধার, ভোটার আইডি সব দেখিয়েছি। তার পরেও বলছে তোমরা বাংলাদেশি। ওরা বজরং দলের লোক। বলছে তোমারা বাংলাদেশি, এখানে কাজ করা যাবে না। এরকম বলেই আমাদের মারধর করছে। এখানে যদি কোনও কাজের ব্যবস্থা হয় তাহলে আর বাইরে যাব না।

    অন্য এক পরিযায়ী শ্রমিক শেখ আসলাম  বলেন, ওখানে আমরা দেড় মাস কাজ করেছিলাম। মোট ১১ জন ছিলাম। কয়েকদিন আগে ৩ জনকে কারখানা থেকে ঘরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আমরা এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে কারখানার মালিক বলেন, তোমাদের হিসেব মিটিয়ে দেওয়া হবে। বিকেল চারটের সময়ে বেতনের টাকা মিটিয়ে দেওয়ার কথা। কিন্তু দুপুর আড়াইটে নাগাদ ৫০-৬০ বজরং দলের সমর্থক এসে বলে তোরা বাংলাদেশি। আমরা আইডি দেখানোর পরও আমাদের মারধর করা হয়। আমাদের বলে, আমরা নাকি বাংলাদেশি। বাংলাদেশ থেকে এসে চুরি চামারি করি। গোলমালের সময়েই পুলিস চলে এসে আমাদের উদ্ধার করে। স্থানীয় সুরজপুর থানার পুলিস আমাদের রাঁচির বাসে বসিয়ে দেয়। বাকীদের আটকে রাখে। আমাদের এখানকার পুলিস ভালো সহযোগিতা করেছে। আমাদের এখন ভয় লাগছে। এখানে কাজ পেলে আর বাইরে যাব না।

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)