তথাগত চক্রবর্তী: স্কুলে যাওয়ার পথে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অকালে ঝরে গেল এক শিশুর প্রাণ। মৃত ছাত্রীর নাম স্মৃতি তরফদার। বয়স মাত্র ১১ বছর। সে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী এবং বাসন্তী দেবী বালিকা বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করত। (Sonarpur Road Accident)
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ সোনারপুরের দিদিমণি স্টপেজ সংলগ্ন এলাকায় এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাটি ঘটে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন প্রতিদিনের মতোই স্মৃতি তার দিদি দিশা তরফদারের ব্যাটারি চালিত স্কুটিতে চেপে স্কুলে যাচ্ছিল। দিশা স্মৃতির কাকার মেয়ে এবং একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। স্কুটিতে স্মৃতির সঙ্গে ছিল তার আরেক বোন শ্রুতি তরফদার। তিনজনেই বাসন্তী দেবী বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, 'দিদিমণি স্টপেজের' কাছে রাস্তায় অন্য একটি গাড়িকে সাইড দিতে গিয়ে স্কুটির ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন দিশা। মুহূর্তের মধ্যেই স্কুটিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায়। তিনজনই পুকুরে তলিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। দিশা ও শ্রুতিকে কোনওরকমে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও দীর্ঘক্ষণ স্মৃতির খোঁজ পাওয়া যায়নি। প্রায় কুড়ি মিনিট পরে পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয় স্মৃতিকে। দ্রুত তাঁকে পাশের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এই খবরে পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে গভীর শোকের ছায়া। হাসিখুশি স্মৃতির এমন আকস্মিক মৃত্যুতে স্তব্ধ প্রতিবেশীরা। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিস জানিয়েছে।
এর আগে, সোনারপুরের ঘাসিয়াড়ায় ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাল দুই নাবালক। মৃতেরা এলাকারই বাসিন্দা, দেবকুমার ও সাগর সরকার নামে বছর ১৬-র দু’জন কিশোর। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে বাবার সঙ্গে সাগরের শেষবার কথা হয়েছিল। রাত সাড়ে দশটা নাগাদ বাড়ি ফেরার কথা জানিয়েই ব্যাডমিন্টন খেলতে বেরিয়েছিল তাঁরা। এরপর বাবা ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে উঠে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর পান।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি প্রাইভেট গাড়ি সোনারপুরের দিক থেকে তেমাথার দিকে যাচ্ছিল। গাড়িটি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ছিল বলে দাবি। সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে একটি লাইট পোস্টে ধাক্কা মারে। তারপর সোজা গিয়ে রাস্তার ধারের দোকানঘরে ঢুকে পড়ে। সংঘর্ষের জেরে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দুই কিশোরের।
এরকম স্কুটিতে পথ-দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে এক শিক্ষকের। নাম সন্দীপ রায় (৪৬)।ঘটনাটি ঘটে বুধবার রাতে সোনারপুর থানা সংলগ্ন সেতুর কাছে। জানা গিয়েছে, সন্দীপবাবু সোনারপুরের বোস বাগানের বাসিন্দা। বালিগঞ্জের একটি বেসরকারি স্কুলের ইতিহাসের শিক্ষক। রাতে এটিএম থেকে টাকা তোলার জন্য নিজের স্কুটি নিয়ে সোনারপুর উড়ালপুল থেকে নেমে সোনারপুর মোড়ের দিকে যাচ্ছিলেন। বৃষ্টিতে রাস্তায় পিছলে স্কুটি সমেত মাটিতে পড়ে যান তিনি। সেই সময় থেকে আসা লরির চাকায় তার একটা পা ও শরীরের কিছু অংশ পিষে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি নার্সিংহোমে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ইএম বাইপাস সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে রেফার করেন চিকিৎসকরা।