কংগ্রেস-আইএসএফের জন্য আসন ছাড়তে নারাজ শরিকরা! ফ্রন্টের অন্দরেই চাপে সিপিএম
প্রতিদিন | ০৬ জানুয়ারি ২০২৬
স্টাফ রিপোর্টার: ছাব্বিশের নির্বাচনের আসন বণ্টন নিয়ে শরিকদের সঙ্গে দুদিন ধরে বৈঠকে বসতে চলেছেন প্রবীণ সিপিএম নেতা তথা বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু। সেই বৈঠকের আগেই ভিন্ন সুর শরিকদের। এই শূন্য বাজারেও আসন বণ্টন নিয়ে শরিকি জটিলতার মধ্যে পড়তে হবে সিপিএমকে।
বামফ্রন্টের বাইরে আর কারও সঙ্গে কোনও জোট চাইছে না ফরওয়ার্ড ব্লক। শুধু তাই নয়, সরকারে থাকাকালীন ৩৪টি আসনে লড়ত ফরওয়ার্ড ব্লক। এবারও সেই আসনগুলিতে লড়তে অনড় ফরওয়ার্ড ব্লকের রাজ্য সম্পাদক নরেন চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, “বামফ্রন্টের বাইরে কারও সঙ্গে জোট চাইছি না আমরা। আমাদের পুরনো যে আসন ছিল, সেগুলিতেই লড়তে চাইছি।” একুশের বিধানসভা নির্বাচনে ২১টি আসনে লড়েছিল ফরওয়ার্ড ব্লক। কিন্তু গতবার কংগ্রেস ও আইএসএফের সঙ্গে জোট করে বামফ্রন্ট।
আরেক শরিক আরএসপি আগ্রহী ছিল না আইএসএফের সঙ্গে জোটে। কিন্তু আইএসএফের চেয়ারম্যান নওশাদ সিদ্দিকি ইতিমধ্যেই আলিমুদ্দিনে গিয়ে ফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুর সঙ্গে কথা বলে এসেছেন। জোট হলে গতবারের চেয়ে বেশি আসন চাইবে আইএসএফ। আরএসপির রাজ্য সম্পাদক তপন হোড়ের কথায়, “আইএসএফের সঙ্গে সিপিএম কথা বলে ফেলেছে। তাই বৃহত্তর স্বার্থে আমরা আগেরবার যে আসনে লড়েছিলাম তা মেনে নেব। কিন্তু কংগ্রেসের সঙ্গে যদি জোট না হয় তাহলে ১৯টি আসন চাইব।”
মঙ্গলবার সিপিআই, বুধবার আরএসপির সঙ্গে বৈঠক বিমানবাবুর। একুশে ১২টি আসনে লড়েছিল সিপিআই। এবার কংগ্রেসের সঙ্গে জোট না হলে দলের তরফে আরও বেশি আসন দাবি করা হতে পারে। যদিও বাংলায় বামেরা এখন সংসদীয় ও পরিষদীয় রাজনীতিতে শূন্য। ভোট নেমে এসেছে পাঁচ থেকে ছয় শতাংশে। তাই ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া সিপিএম রাজ্যে প্রাসঙ্গিকতা ফিরে পেতে কংগ্রেস, আইএসফকে আঁকড়ে জোট চাইছে। গত উপনির্বাচনে আবার এই প্রথম লিবারেশনের সঙ্গে জোট হয়েছিল সিপিএম তথা বামেদের। কাজেই বর্তমান পরিস্থিতিতে অন্য দলকে নিয়ে জোট করে লড়তে গেলে সকলকেই আসন ছাড়তে হবে কম-বেশি। তাই আগের মতো শরিক সিপিআই, ফরওয়ার্ড ব্লক নিজেদের দাবি করা আসন ছাড়বে না বা বাম আমলে পুরনো যে সিটে তারা লড়ত এখনও সেই আসনই তাদের দিতে হবে, এমনটার পরিবর্তন চাইছে সিপিএম।