• পাশে আছেন মমতা, সরকারি চাকরি পেলেন জুয়েলের মা
    আজকাল | ০৭ জানুয়ারি ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: ওড়িশায় পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে গিয়ে বাংলাদেশি সন্দেহে দুষ্কৃতীদের হাতে নিহত মুর্শিদাবাদের সুতি থানার অন্তর্গত চক বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা জুয়েল রানার পরিবারের পাশে দাঁড়াল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নির্দেশে জুয়েল রানার মা নাজেমা বিবির হাতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিলেন মুর্শিদাবাদের সুতি-১ ব্লকের বিডিও অরূপ কুমার সাহা। চাকরির নিয়োগপত্র প্রদানের সময় বিডিও অফিসে উপস্থিত ছিলেন জঙ্গিপুরের তৃণমূল সাংসদ খলিলুর রহমান-সহ এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবী সুভাষ লালা এবং আরও কয়েকজন। 

    মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে নাজেমা বিবিকে ভূমি রাজস্ব দপ্তরে স্থায়ী চাকরি দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে সবুজ সংকেত আসার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাঁর হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে বুধবার সকালে নাজেমা বিবি সুতি-১ ব্লকের ভূমি এবং ভূমি রাজস্ব দপ্তরে ‘অ্যাটেনডেন্ট’ হিসেবে চাকরিতে যোগ দেবেন বলে জানা গিয়েছে। 

    বিডিও অরূপ কুমার সাহা বলেন, “রাজ্য সরকারের নির্দেশে নাজেমা বিবিকে আজ চাকরির নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। বুধবার সকাল ১১টা নাগাদ তিনি কাজে যোগ দেবেন।” তিনি আরও বলেন, “জুয়েল রানার মৃত্যুর পর ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের তরফ থেকে ওই পরিবারকে দু’লক্ষ টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি ওই পরিবারকে রেশন এবং অন্যান্য সাহায্য প্রদান করা হয়েছে।” 

    রাজ্য সরকারের চাকরির নিয়োগপত্র পেয়ে নাজেমা বিবি মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দেন। তিনি বলেন, “আমার ছেলের মৃত্যুর পর মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূল দল যে ভাবে আমার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে তার কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা নেই।”

    প্রসঙ্গত, প্রায় ১৫ দিন আগে ওড়িশার সম্বলপুর জেলায় পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে রাজমিস্ত্রির কাজ করতে গিয়েছিলেন মুর্শিদাবাদের সুতি থানার বাসিন্দা জুয়েল রানা (২১)। জুয়েল মুর্শিদাবাদের আরও কয়েকজন পরিযায়ী শ্রমিকের সঙ্গে সম্বলপুরের শান্তিনগর এলাকায় একটি বহুতল নির্মাণের কাজে জড়িত ছিলেন। সারাদিনের কাজের শেষে জুয়েল বাকি পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে শান্তিনগর এলাকায় একটি বহুতলেই রাতে ঘুমাতেন। রাতের অন্ধকারে সেখানে ওড়িশার কয়েকজন বাসিন্দা হানা দেন।  এরপর সেখানে জুয়েলকে বাংলাদেশি সন্দেহে প্রচণ্ড মারধর করা হয়। স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে জুয়েলকে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। দুষ্কৃতীদের হাতে মারধরের ঘটনায় মুর্শিদাবাদের আরও দুই পরিযায়ী শ্রমিক গুরুতর আহত হন। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই মুর্শিদাবাদের সুতি থানার পুলিশ একটি ‘জিরো এফআইআর’ রুজু করেছে। মুর্শিদাবাদের সুতি থানার তদন্তকারী দল এই মামলার তদন্তের স্বার্থে একবার ওড়িশা ঘুরে এসেছে। বিষয়টি কেন্দ্র করে দেশ জুড়ে নিন্দার ঝড় বয়ে যাওয়ার পর ওড়িশার বিজেপি সরকার বাধ্য হয়ে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে। জুয়েল রানার মৃতদেহ ওড়িশা থেকে মুর্শিদাবাদে ফিরিয়ে আনার যাবতীয় খরচ রাজ্য সরকার বহন করেছে। 
  • Link to this news (আজকাল)