প্রাত্যহিক জীবনে কীভাবে কাজে লাগে অংক, ছোটোদের শেখাতে চাইছে কেন্দ্র
বর্তমান | ০৭ জানুয়ারি ২০২৬
দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: অংক বই দেখলেই গায়ে জ্বর? পড়ায় অনীহা? কিংবা যেদিন অংকের ক্লাস, সেদিন স্কুলেই যেতে না চাওয়া? বিশেষত খুদে পড়ুয়াদের মধ্যে এমন অংক ভীতির কথা হামেশাই শোনা যায়। কখনও তাদের গার্জেন কল হয়। কখনও মাস্টারমশাই নিজেই সমস্যার সুরাহা খোঁজার চেষ্টা করেন। কিন্তু সব ছাত্রছাত্রীর জীবনেই একজন করে নিকুম্ভ স্যার আসেন না। অন্তত অংক বিষয়ের কথা মাথায় রেখে এবার কিছুটা সেই রামশঙ্কর নিকুম্ভের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে চাইছে শিক্ষামন্ত্রক! স্কুলের খুদে পড়ুয়াদের মধ্যে অংক ভয় কাটিয়ে ওই বিষয়কে একেবারে ব্যবহারিক জীবনের উপযোগী করে তোলার পাঠই দিতে চাইছে সরকার। সরকারি সূত্রের খবর, স্কুলের নীচু শ্রেণিতে এহেন ব্যবহারিক গণিতেই জোর দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন প্রাত্যহিক কাজকর্মে কীভাবে কাজে লাগে অংক? সিবিএসইর ক্লাস ওয়ান থেকে ক্লাস এইট পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীদের মূলত সেটিই শেখানোর জন্য উদ্যোগ নিচ্ছে শিক্ষামন্ত্রক।
শিক্ষামন্ত্রকের শীর্ষ সূত্রে জানানো হয়েছে, ২০২৬-২৭ শিক্ষা বছর থেকেই এই সংক্রান্ত পাঠ দেওয়া শুরু হবে প্রধানত সিবিএসইর আওতাভুক্ত স্কুলগুলিতে। সেইমতোই এনসিইআরটিকে প্রয়োজনীয় পাঠ্য বই ছাপানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রক মনে করছে, অংক ভীতি শুধুমাত্র যে সিবিএসইর পড়ুয়াদেরই রয়েছে, এমন নয়। সামগ্রিকভাবেই স্কুলের ছোট ছেলেমেয়েদের একটি বড় অংশই এই সমস্যায় ভুগছে। সেই কারণে এই ব্যাপারে বিভিন্ন রাজ্য সরকারের সঙ্গে সুনির্দিষ্ট আলোচনা চায় কেন্দ্র। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, শীঘ্রই এই ব্যাপারে রাজ্যগুলির সঙ্গে সচিব পর্যায়ের বৈঠক করতে পারে কেন্দ্র সরকার।
জানা যাচ্ছে, কোনও দোকানে গিয়ে কীভাবে সঠিক মূল্যে সামগ্রী কিনে আনতে পারবে খুদেরা, তার পাঠ থাকবে বইয়ে। পাশাপাশি বাবা-মায়ের সঙ্গে কোনও রেস্তরাঁয় যাওয়ার পর যে বিল দেওয়া হল, সেখানে খাবারের দামের সঙ্গে কীভাবে জিএসটি এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ জুড়ে মোট বিলের দাম হিসেব করা হল, মিলবে তার পাঠও। এবং এহেন আরও একাধিক প্রাত্যহিক কর্মের সঙ্গে যুক্ত হিসেব নিকেশ গাণিতিক পরিভাষায় শেখানো হবে খুদে পড়ুয়াদের। অর্থাৎ, অংককে আরও আকর্ষণীয় করে ভয় কাটিয়ে দেওয়াই অন্যতম লক্ষ্য কেন্দ্র সরকারের। পাশাপাশি প্রাচীন ভারতের গণিত চর্চাও ছোটদের মতো করে পড়ানো হবে। থাকবে পিথাগোরাসের উপপাদ্যের উল্লেখও। তবে শুধুই ছোটোরা নয়। পরবর্তী ক্ষেত্রে এমন কিছু বিষয়ভাবনা তৈরি হবে উঁচু ক্লাসের পড়ুয়াদের জন্য। যদিও এই ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি।