ট্রেনের নন-এসি স্লিপার কোচে অবাঞ্ছিত ভিড়, শিকেয় রেল কর্তৃপক্ষের নজরদারি
বর্তমান | ০৭ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: রাজ্যে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আগে রেলকে মধ্যবিত্তের পরিবহণ প্রমাণে রীতিমতো মরিয়া কেন্দ্রের মোদি সরকার। কিন্তু মুখে মধ্যবিত্তের কথা বললেও বাস্তবে কি আদৌ প্রান্তিক স্তরের সাধারণ যাত্রীদের নিয়ে কোনও মাথাব্যথা আছে রেলের? অভিযোগ, এই মুহূর্তে রেলের যাবতীয় ধ্যানজ্ঞান ট্রেনের এসি কোচগুলিই। অর্থাৎ, যেখানে ভাড়া বেশি। তালমিলিয়ে মুনাফাও বেশি। নন-এসি সাধারণ স্লিপার কিংবা জেনারেল কামরা নিয়ে বিশেষ চিন্তাই নেই রেলের। এমনিতেই নিত্যদিন ওয়েটিং লিস্টের সমস্যায় জেরবার রেল যাত্রীরা। সাধারণ স্লিপার তো বটেই। এমনকী বেশি ভাড়ার এসি কোচেও কনফার্মড টিকিট পেতে নাজেহাল দশা। যেসব যাত্রী কোনওমতে নন-এসি স্লিপার ক্লাসের সংরক্ষিত শ্রেণিতে নিশ্চিত আসন পাচ্ছেন, তাঁদের অধিকাংশকেই রীতিমতো দুর্বিসহ অভিজ্ঞতার মুখে পড়তে হচ্ছে। কারণ অধিকাংশ দূরপাল্লার সাধারণ মেল, এক্সপ্রেস ট্রেনেই নন-এসি স্লিপার ক্লাসে আর তিলধারণের জায়গাও থাকছে না। রিজার্ভড কোচে বেমালুম উঠে যাচ্ছেন অসংরক্ষিত শ্রেণির যাত্রীরাও। কারণ জেনারেল কোচে পর্যাপ্ত জায়গার অভাব।
অসংরক্ষিত শ্রেণির যাত্রীরা উঠে পড়ায় সংরক্ষিত কোচের যাত্রীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। সংরক্ষিত আসনে অন্য লোকজন বসে থাকছেন। ফলে কনফার্মড রিজার্ভড টিকিট থাকা সত্ত্বেও অনেকটা রাস্তা কার্যত দাঁড়িয়ে যেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এক্ষেত্রে রেলের নজরদারিও একপ্রকার শিকেয় উঠেছে। উঁচু ক্লাসে আরপিএফের টহল থাকলেও সাধারণ শ্রেণিতে সেভাবে নজরদারি চালানো হয় না বলেই অভিযোগ।
হেল্পলাইনে ফোন করলে ‘নাম কা ওয়াস্তে’ আরপিএফ আসে ঠিকই। কিন্তু পরবর্তী স্টেশনে তাঁরা নেমে যান। পরিস্থিতি আবার আগের মতোই হয়ে যায়। একের পর এক এসংক্রান্ত অভিযোগ উঠলেও এব্যাপারে রেল সম্পূর্ণ নিরুত্তর। এক রেল যাত্রীর অভিযোগ, সম্প্রতি পূর্বা এক্সপ্রেসে তাঁরা টুন্ডলা থেকে হাওড়া এসেছেন। সাধারণ স্লিপার ক্লাসেই তাঁদের টিকিট কাটা ছিল। ট্রেনে উঠে দেখেন, তাঁদের রিজার্ভড সিটে বসে একাধিক যাত্রী। অনেকেই দাঁড়িয়ে। নিজেদের সিটে গুছিয়ে বসা দূর কি বাত। মালপত্র নিয়ে এগনোরই জায়গা নেই। তর্ক করেও কাজ না হওয়ায় হেল্পলাইনে ফোন করেন তাঁরা। আরপিএফ আসে। সাময়িক সুরাহা মেলে। কিন্তু আরপিএফ নেমে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আবারও আগের পর্যায়ে ফিরে যায়। জানা যাচ্ছে, নিত্যদিন এমন হাজার হাজার অভিযোগ পাচ্ছে রেল বোর্ড। এই মুহূর্তে সারা দেশে রেলের মোট কোচের সংখ্যা ৮২ হাজার ২০০টি। এর মধ্যে ৭০ শতাংশ কোচই জেনারেল এবং নন-এসি স্লিপার। এমনকী বিগত কয়েক বছরে রেলের নন-এসি কোচে যাত্রী সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, তাসত্ত্বেও কেন ফেরানো হচ্ছে না নজর?
এরইমধ্যে জানা গিয়েছে, ২০২৬-২৭ আর্থিক বছরে ৪ হাজার ৮০২টি জেনারেল এবং নন এসি স্লিপার কোচ তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে রেল। চলতি আর্থিক বছরে তৈরি হবে ৪ হাজার ৮৩৮টি এহেন কোচ। প্রতিটিই হবে এলএইচবি।