• বাংলাদেশের সঙ্গে গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে সংশয়, ভারত বিরোধিতার জের
    বর্তমান | ০৭ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির ভবিষ্যৎ কী? নতুন বছরের শুরুতেই এই আলোচনা ও জল্পনা তৈরি হয়েছে সরকারের অন্দরে। কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের মধ্যে এখন থেকেই এই চুক্তির অন্তর্গত শর্তাবলি এবং ৩০ বছরের সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে নোট ও রিপোর্ট লেখা শুরু হয়েছে। কারণ, এই বছরই সমাপ্ত হচ্ছে ভারত ও বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ এই গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তি। ১৯৯৬ সালে ৩০ বছরের জন্য হয়েছিল ওই চুক্তি। ৩০ বছর ধরে বহুবার নানাবিধ সম্পর্কে ওঠা-পড়া চললেও চুক্তি অটুট রয়েছে। বিগত ৩০ বছরে কখনও বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন হয়েছেন শেখ হাসিনা। কখনও বেগম খালেদা জিয়া। ঐতিহাসিকভাবে শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক সর্বদাই উন্নত। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যতরকম দ্বিপাক্ষিক ইতিবাচক চুক্তি হয়েছে, তার সিংহভাগই আওয়ামি লিগ সরকারের সঙ্গে। যদিও বিএনপি সরকারের সঙ্গে ভারতের তীব্র মতান্তর কিংবা সম্পর্কে প্রবল অবনতি হয়নি। যা হয়েছে বর্তমানে বাংলাদেশের অরাজক পরিস্থিতির সময়। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সবরকম প্রোটোকল একপ্রকার ধাক্কা খেয়েছে। বাংলাদেশে শুরু হয়েছে ভারত বিরোধী রাজনীতির রমরমা। সংখ্যালঘু নিধন। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে এবং আগামী মাসের নির্বাচনের পর ভারত বিরোধী কোনও সরকার বাংলাদেশে গঠিত হলে, জলবণ্টন চুক্তির নবীকরণ বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়বে। 

    আগামী মাসের বাংলাদেশ নির্বাচনে এই চুক্তিও অন্যতম ইস্যু হবে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে সমাপ্ত হবে চুক্তি। তাই বছরের মাঝামাঝি সময়েই সব নবীকরণ প্রক্রিয়া ও শর্তাবলিতে স্বাক্ষর করে ফেলতে হবে। গত সপ্তাহ থেকেই শুরু হয়েছে চুক্তি নিয়ে উভয় দেশের প্রশাসনিক সক্রিয়তা। ভারতের কেন্দ্রীয় জল কমিশনের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে গিয়েছিলেন। দুই দেশেই গঙ্গা ও পদ্মার জলের স্রোত সংক্রান্ত পরিমাপ নিতে শুরু করেছে। ৩১ মে পর্যন্ত এই পর্ব চলবে। জানা যাচ্ছে, এবার গঙ্গা জলবণ্টন অত্যন্ত উত্তপ্ত আলোচনার মধ্যে দিয়ে যাবে। কারণ ভারত চাইছে চুক্তি নবীকরণ হলেও ৩০ বছরের জন্য চাইছে না। খুব বেশি হলে ১৫ বছর করতে চায় নয়াদিল্লি। তারউপর বাংলাদেশ আরও বেশি জল চাইছে। ভারত দিতে রাজি নয়। সর্বোপরি জল বণ্টন চুক্তিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মতামত বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হবে।  
  • Link to this news (বর্তমান)