নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: জেএনইউয়ে ‘বিতর্কিত’ স্লোগান। তারই প্রেক্ষিতে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার বসন্তকুঞ্জ থানায় এফআইআর দায়ের করল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি আন্দোলনের তীব্র নিন্দা করে বিবৃতিও দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের কথাও জানিয়েছে তারা। এক্ষেত্রে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কারও করা হতে পারে।
সিএএ, এনআরসি বিরোধী আন্দোলন এবং তারই আবহে ২০২০ সালের ৫ জানুয়ারি জেএনইউ ক্যাম্পাসে হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে। বাম পরিচালিত জেএনইউ ছাত্র সংসদের সেইসময় অভিযোগ ছিল এবিভিপির ‘গুণ্ডাবাহিনী’র বিরুদ্ধেই। জেএনইউ ছাত্র সংসদের তৎকালীন সভানেত্রী ঐশী ঘোষের উপরও হামলার অভিযোগ ওঠে। ক্যাম্পাস চত্বরে সেই হামলার ছ’বছর ‘পূর্তি’তে সোমবার জেএনইউয়ে বিক্ষোভ অবস্থানের আয়োজন করেছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ। সেইসময় দিল্লি গোষ্ঠী সংঘর্ষের অন্যতম দুই অভিযুক্ত তথা প্রাক্তন দুই জেএনইউ পড়ুয়া উমর খালিদ এবং শারজিল ইমামের প্রসঙ্গও ওঠে। এরপরই বসন্তকুঞ্জ থানায় এফআইআর দায়ের করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাদের অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন বিষয়ে আন্দোলন করে আদতে আদালত অবমাননা করা হয়েছে। পাশাপাশি ওই আন্দোলনে ক্রমাগত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরোধিতা করে ‘বিতর্কিত’ স্লোগান দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পত্রে নির্দিষ্ট করে জেএনইউ ছাত্র সংসদ ও কয়েকজন পড়ুয়ারও নামোল্লেখ করা হয়েছে।
বিজেপির অভিযোগ, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির মদতেই বারবার একাজ হচ্ছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিংয়ের দাবি, যারা উমর খালিদ কিংবা শারজিল ইমামের মতো ব্যক্তিকে সমর্থন করছে, আদতে তারা দেশদ্রোহী। ‘বিতর্কিত’ স্লোগানকে সমর্থন না করলেও কংগ্রেস, আরজেডি সহ বিভিন্ন বিরোধী দলের অভিযোগ, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলন করার মতো গণতান্ত্রিক অধিকারও কেড়ে নিতে তৎপর হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাকস্বাধীনতা সাংবিধানিক অধিকার ঠিকই। কিন্তু ঘৃণার রাজনীতি কোনওমতেই মেনে নেওয়া হবে না। বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনার জায়গা। জেএনইউ ছাত্র সংসদ মঙ্গলবার দাবি করেছে, প্রকৃত এজেন্ডা থেকে নজর ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্যই অন্য ইস্যু সামনে নিয়ে আসা হচ্ছে। রীতিমতো চক্রান্ত করে ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে। ছ’বছর আগে হামলার অন্যতম প্রধান ‘টার্গেট’ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সবরমতী হস্টেলই। তাই সেখানেই আন্দোলনের আয়োজন করা হয়েছিল।