• ভোটে আড়াইশো আসনে জয়ের ‘টার্গেট’ বেঁধে দিলেন অভিষেক
    বর্তমান | ০৭ জানুয়ারি ২০২৬
  • বলরাম দত্তবণিক, রামপুরহাট: রামপুরহাটের ‘রণসংকল্প’ সভা থেকে দলের নেতা-কর্মীদের আড়াইশো আসনে জেতার টার্গেট বেঁধে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এই লক্ষ্য পূরণে  প্রবল আত্মবিশ্বাসী তিনি। 

    মঙ্গলবার রামপুরহাটের বিনোদপুর মাঠের ওই সভা থেকে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন যখনই ঘোষণা হোক, আমরা রাজনৈতিক লড়াই শুরু করেছি। এই লড়াইয়ে জয় হবে আমাদেরই।’ তারপরই তিনি স্লোগান তোলেন—‘যতই করো হামলা, এবার জিতবে বাংলা। যতই করো মামলা, এবার জিতবে বাংলা। যতই করো ষড়যন্ত্র, এসআইআর, চতুর্থবার মা, মাটি, মানুষের সরকার। আমরা কোনও ধমকানি, চমকানির কাছে মাথা নত করি না।’ আর এই ‘মাথা নত না করা’র শক্তি যে বাংলার মানুষ, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তৃণমূলের সেনাপতি। তিনি বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে বাংলার মানুষের দোয়া, আর্শিবাদ রয়েছে। আগামীদিনেও থাকবে। তাই, তৃণমূলের এবার ভোট বাড়বে। ২১৪ পার করে তৃণমূল আরও শক্তিশালী হবে। যতই আপনারা আঘাত করেছেন, ততই তৃণমূল শক্তিশালী হয়েছে। গরিব মানুষের টাকা আটকে দিয়ে ওঁরা ভেবেছিলেন মানুষকে শিক্ষা দেবে।’ 

    দু’দিন আগে বিজেপির রাজ্য কমিটির নেতা কালীপদ সেনগুপ্ত ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন। বলেছিলেন, ‘যাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছেন তাঁদের বাড়িতে বন্দি করে রাখো।’ এদিন কড়া ভাষায় তার পাল্টা দিয়েছেন অভিষেক। বলেছেন, ‘বছরে ২৮ হাজার কোটি টাকা খরচ করে সরকার ২ কোটি ৩২ লক্ষ মহিলাকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিচ্ছে। আমি বলছি, যতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থাকবেন, এই সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের দিকে এরা চোখ বা আঙুল তুলে কথা বলার সাহস থাকবে না। আপনারা মাসের প্রথমেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পেতে থাকবেন। বিজেপির যত বড়ই নেতা হোক না কেন, আটকাতে পারবে না।’

    এদিন কেন্দ্রের বঞ্চনা নিয়েও অভিষেক সরব হয়েছেন রামপুরহাটের সভায়। তিনি বলেন, ‘একশো দিনের কাজের টাকা, সর্বশিক্ষা মিশন, আবাস, জলজীবন মিশন, গ্রাম সড়ক যোজনার টাকা বন্ধ। সবমিলিয়ে বাংলার পাওনা দু’লক্ষ কোটি টাকা।  বাংলায় ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্র। বকেয়া টাকা পেলে এক-একটি কেন্দ্রে আরও ৬৮০ কোটি টাকার কাজ রাজ্য সরকার করতে পারবে। বাংলায় ৮০ হাজার বুথ রয়েছে। তার মানে একটি বুথে আড়াই কোটি টাকার কাজ রাজ্য করতে পারে। টাকা না দিয়ে বাংলাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু, আমরা কারও কাছে মাথানত করি না। ওদের দয়া-দাক্ষিণ্যে বেঁচে নেই। কবে বিজেপি টাকা দেবে, বাংলার মানুষ টাকা পাবে, সেই রাজনীতি আমরা করি না। আসলে ওরা চায়, বাংলার মানুষকে ভাতে মারতে।’ 

    কেন্দ্রের এই অপচেষ্টাকে রুখতে বিজেপিকে চরম শিক্ষা দেওয়ার বার্তাও দিয়েছেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড। বলেছেন, ‘আগামী নির্বাচন তৃণমূলকে জেতানোর লড়াই নয়। বিজেপিকে শিক্ষা দেওয়ার লড়াই।’ আর এই লড়াইয়ে তৃণমূলের মোক্ষম অস্ত্র যে উন্নয়ন, সেটাও বুঝিয়ে দিয়েছেন অভিষেক। বলেছেন, ‘মমতার সরকার ১৫ বছরের রিপোর্ট কার্ড উন্নয়নের পাঁচালি করে বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছে  দিচ্ছে। আণরা যদি উন্নয়নের হিসেব দিই, বিজেপি কেন দেবে না। ওদের খালি বড় বড় ভাষণ, ভাঁওতা। ওরা ভোট চাইতে এলে ১১ বছরের রিপোর্ট কার্ড চাইবেন।’ একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিতলে বাংলার ১০ কোটি মানুষ শান্তিতে থাকবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ণ থাকবে। তৃণমূল জিতলে দু’মুঠো ভাত আর বিরোধীরা কুপোকাত। বিজেপি জিতলে ধর্মে ধর্মে আঘাত, বিভাজন আর অন্তর্ঘাত। বাংলা বিরোধীদের ভোকাট্টা করতে হবে। 
  • Link to this news (বর্তমান)