• ধর্ষণের অভিযোগ, অভিজাত আবাসন থেকে ধৃত ব্যবসায়ী
    বর্তমান | ০৭ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যাদবপুরের অভিজাত আবাসন থেকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার কোটিপতি ব্যবসায়ী। হরশাল কালরা নামে ওই অভিযুক্ত সোমবার রাতে  ধরা পড়ে যাদবপুর থানার হাতে। এই আবাসনে সে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকছিল। বেশ কিছুদিন ধরেই পলাতক ছিল অভিযুক্ত। 

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে,  নির্যাতিতা তরুণীর সঙ্গে একটি পার্টিতে গিয়ে পরিচয় হয় হরশালের। সেখানে দুজনের মধ্যে ফোন নম্বর আদানপ্রদান হয়। অভিযুক্ত ও অভিযোগকারিনী দুজনেই বড় ব্যবসায়ী। প্রথমে তরুণীর সঙ্গে ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথাবার্তা হতো। এরপর দুজনের মধ্যে আলাপ জমে ওঠে। নিয়মিত রাতে মেসেজ আদানপ্রদান  চলত। এই পর্বেই তরুণীকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় হরশাল। তাতে রাজি হন অভিযোগকারিনী। অভিযুক্ত তরুণের যাদবপুরের একটি অভিজাত আবাসনে ফ্ল্যাট ছিল। সেখানে প্রায়ই আসতেন ওই তরুণী। অভিযোগ সেখানে তাঁকে লাগাতার ধর্ষণ করে অভিযুক্ত। এমনকী বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে নিয়ে গিয়েও তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। তিন বছর সম্পর্কে থাকার পর ওই তরণী অভিযুক্তকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন। বিভিন্ন অজুহাতে তা এড়াতে শুরু করে হরশাল। এক পর্যায়ে তরুণীর সঙ্গে কথাবার্তা কমিয়ে দেয়। এমনকী ফোনও ধরত না। হঠাৎ ওই তরুণী জানতে পারেন, যাদবপুরের ফ্ল্যাট বিক্রি করে দিয়েছে অভিযুক্ত যুবক। হরশালের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তরুণী। দেখা যায়, মোবাইল নম্বর বদলে ফেলেছে অভিযুক্ত।  তরুণী বুঝতে পারেন, প্রতারিত হয়েছেন। এরপরই চলতি বছরের শুরুতেই যাদবপুর থানায় বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের লিখিত অভিযোগ করেন। তার ভিত্তিতে কেস রুজু করে থানা। তরুণীর মেডিক্যাল পরীক্ষা করানো হয়। তাঁর বয়ান রেকর্ড করেন তদন্তকারীরা।

    অভিযুক্তের খোঁজ করতে গিয়ে তদন্তকারীরা জানতে পারেন  নিজের ফ্ল্যাট বিক্রি করলেও, ওই আবাসনেই অন্য একজনের ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকছে হরশাল। মাঝেমধ্যে আসছে। ব্যবসার কাজে বিভিন্ন সময় বাইরে থেকেছে। হরশালের নতুন মোবাইল নম্বর জোগাড় করা হয়। তার ভিত্তিতে জানা যায়, সে যাদবপুরের ওই আবাসনে এসেছে। এরপরই সেখানে হানা দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার তাকে আলিপুর আদালতে তোলা হয়। অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী রাহুল ভৌমিক বলেন তরুণীর সঙ্গে সহমতের ভিত্তিতে সবকিছু হয়েছে। এটা ধর্ষণের ঘটনা নয়। সরকারি আইনজীবী সাজ্জাদ খান বলেন অভিযুক্ত যে ধর্ষণ করেছে, তার প্রমাণ রয়েছে। পলাতক ছিল অভিযুক্ত। সওয়াল শেষে হরশালকে পুলিশি হেফাজতে পাঠায় আদালত।
  • Link to this news (বর্তমান)