রাজ্যে শৈত্যপ্রবাহের সতর্কতা, শীতের কামড় আরও তিনদিন
বর্তমান | ০৭ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ক’দিন ধরেই পরিস্থিতি জানান দিচ্ছিল, এভাবে ঠান্ডা বাড়তে থাকলে শৈত্যপ্রবাহের সতর্কবার্তা জারি হবে। বাস্তবে হলও তাই। আগামী বৃহস্পতি-শুক্রবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় শৈত্যপ্রবাহ ও শীতল দিনের সতর্কবার্তা দিল আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। অর্থাৎ, আরও অন্তত তিন দিন থাকবে এমন হাড়কাঁপানো ঠান্ডা। তারপর যে ঠান্ডা একেবারে কমে যাবে, তাও নয়। কনকনে শীত আগামী সপ্তাহের গোড়ার দিকেও থাকবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নীচে থাকলে এবং তা স্বাভাবিকের থেকে ৪.৫ ডিগ্রি কম হলে শৈত্যপ্রবাহ ধরা হয়। আর দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে অন্তত ৪.৫ ডিগ্রি কম এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির আশপাশে চলে এলে আবহাওয়াবিদরা তাকে বলেন শীতল দিন। আজ, বুধবার ও কাল, বৃহস্পতিবার বীরভূম ও পূর্ব বর্ধমান জেলায় শৈত্যপ্রবাহ ও শীতল দিনের ‘কমলা সর্তকতা’ জারি করা হয়েছে। বীরভূমে শুক্রবারও থাকবে এক পরিস্থিতি।
জোরালো উত্তুরে হাওয়ার দাপটে ঠান্ডা তীব্র হচ্ছে কলকাতা সহ সমগ্র দক্ষিণবঙ্গে। কনকনে ঠান্ডা পড়েছে উত্তরবঙ্গেও। মঙ্গলবার কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২০১৩ সালের পর এই প্রথম কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা জানুয়ারি মাসে এতটা নামল। আবহাওয়াবিদদের পরিভাষায় এদিন কলকাতা সহ অনেকগুলি জেলায় ছিল ‘শীতল দিন’। কারণ, কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এদিন (১৮ ডিগ্রি) স্বাভাবিকের থেকে ৬.৭ ডিগ্রি কম ছিল। দক্ষিণবঙ্গে শীতলতম স্থান ছিল বীরভূমের শ্রীনিকেতন ও সিউড়ি (৬.২ ডিগ্রি, স্বাভাবিকের থেকে ৪.৪ ডিগ্রি কম)। অর্থাৎ বীরভূমের ওই সব জায়গায় মঙ্গলবারই কার্যত শৈত্যপ্রবাহ পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেই সঙ্গে আবহাওয়া দপ্তর আরও জানিয়েছ, আগামী কয়েকদিন ঘন থেকে মাঝারি কুয়াশা অব্যাহত থাকবে। উত্তুরে হাওয়ার সঙ্গে এই কুয়াশা-মেঘ থাকার জন্যই সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কমছে।
মঙ্গলবার দার্জিলিংয়ের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১.৫ ডিগ্রি। উত্তরবঙ্গের সমতল অঞ্চলে বিভিন্ন জায়গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির আশপাশে চলে আসে। এমনকি, কলকাতার কাছাকাছি দমদম, বারাকপুর বা উলুবেড়িয়াতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নীচে নেমে যায়। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানিয়েছেন, উত্তুরে হাওয়ার তীব্রতা থাকায় বুধবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নীচেও নেমে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে তা ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারির (৯ ডিগ্রি) রেকর্ড ভেঙে দেয় কি না, সেটাই দেখার।
পশ্চিমি ঝঞ্ঝা হিমালয়ের উপর থেকে সরে যেতেই কনকনে ঠান্ডা উত্তুরে হাওয়া ঢুকতে শুরু করেছে। তাছাড়া, এবার এতটা বেশি ঠান্ডা পড়ার পিছনে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া একটি নিম্নচাপের সম্পর্ক আছে বলেও জানাচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা। বছরের এই সময় বঙ্গোপসাগরে সাধারণত কোনও নিম্নচাপ তৈরি হয় না। কিন্তু এবার দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি সুস্পষ্ট নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে ইতিমধ্যে। সেটি শক্তি বাড়িয়ে আজ, বুধবারের মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে। নিম্নচাপটি দক্ষিণ ভারত উপকূলের দিকে যাওয়ার জন্য এরাজ্যে সরাসরি তার কোনও প্রভাব পড়েনি। কিন্তু এর পরোক্ষ প্রভাবে বায়ু প্রবাহের গতিপ্রকৃতির পরিবর্তন হয়েছে। সেই কারণে দক্ষিণবঙ্গের দিকে ধেয়ে আসা উত্তুরে হাওয়া আরও তীব্র হয়েছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিকর্তা।