• সরকারি স্কুলের বিল্ডিংয়েই বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম! টানাপোড়েনে বকেয়া বিল, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন
    বর্তমান | ০৭ জানুয়ারি ২০২৬
  • বিশ্বজিৎ মাইতি, বরানগর: একটিই স্কুলবাড়ি। সেখানেই চলছে তিন-তিনটি স্কুল! তার মধ্যে একটি আবার বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম প্রাথমিক স্কুল। সরকারি ও বেসরকারি স্কুলের মতবিরোধে দীর্ঘদিন ধরে বাকি পড়ে রয়েছে বিদ্যুৎ বিল। তাই স্কুলের বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দিয়েছে সিইএসসি। অগত্যা এই প্রবল ঠান্ডার মধ্যে প্রায় অন্ধকারেই কোনওরকমে চলছে কচিকাঁচাদের পঠনপাঠন। এর মধ্যে আবার ওই স্কুলেই এসআইআরের শুনানি কেন্দ্র হয়েছে। কিন্তু বিদ্যুতের কোনও বালাই না থাকায় সেই শুনানি চলছে স্কুলের উঠোনে। 

    বরানগর পুরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আলমবাজারে রয়েছে আর্য বিদ্যালয়। সেখানে হিন্দি মাধ্যমে পঠনপাঠন হয়। মাধ্যমিক স্তরের এই স্কুলে প্রায় ৭৫০ ছাত্রছাত্রী রয়েছে। স্কুলের প্রাথমিক বিভাগ চলে সকালে। সেখানেও ২৫০ জনের বেশি পড়ুয়া। সেই সঙ্গে সকালে স্কুলের দোতলায় আলমবাজার বলাইচরণ দে প্রাথমিক নামে একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল চলে। সেখানেও ছাত্রছাত্রী দেড়শোর বেশি। জানা গিয়েছে, আর্য বিদ্যালয় বহু বছর আগে ঘর ভাড়া নিয়ে চালু হয়েছিল। সেই ঘরের মালিক ছিলেন বরানগর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান বলাইচরণ দে। পরে স্কুল কর্তৃপক্ষ বলাইবাবুর থেকে ওই বাড়িটি কিনে নেয়। সেই সময় স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন হরিশঙ্কর সিং। তিনি ২০০১ সাল নাগাদ ওই স্কুলের মধ্যেই বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলটি চালু করেন। স্কুলটি বর্তমানে চালান তাঁর ছেলে সুনীল সিং। হরিশঙ্করবাবু বা তাঁর পরবর্তী জমানায় নতুন আর্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে ভালোভাবেই চলছিল বেসরকারি স্কুলটি। কিন্তু বর্তমানে আর সেই সুসম্পর্ক নেই। তাতেই বেধেছে বিপত্তি। সরকারি স্কুলের মিটার থেকে বেসরকারি স্কুলের

    বিদ্যুৎ সংযোগ করা ছিল। গত কয়েক মাসে ধরে সেই বিদ্যুতের বিল দেওয়া হয়নি। প্রায় ৪২ হাজার টাকা বকেয়া থাকায় সিইএসসি গত নভেম্বরে বিদ্যুতের লাইন কেটে দেয়। 

    এই স্কুলে ৫ নম্বর ওয়ার্ড ছাড়াও আশপাশের ৬টি  ওয়ার্ডের এসআইআরের শুনানি চলছে। বিদ্যুৎ না থাকায় শুনানি হচ্ছে স্কুল ক্যাম্পাসে খোলা আকাশের নীচে। বিকেল না হতে হতেই এখন সন্ধ্যা নেমে যাচ্ছে। তাই কাউন্সিলারদের উদ্যোগে রাস্তার বাতিস্তম্ভ থেকে বিদ্যুতের লাইন এনে আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে শুনানির জন্য। মাধ্যমিক স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বীরেন্দ্র কুমার বলেন, ‘বেসরকারি স্কুল কীভাবে সরকারি স্কুলে চলতে পারে? এনিয়ে শিক্ষাদপ্তরকে বহুবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। ওই স্কুলের বিদ্যুতের বিল বহন করার টাকা কোথা থেকে পাব? আমাদের স্কুলের নামে মিটার। টাকা দিতে না পারায় সিইএসসি লাইন কেটেছে।’ বেসরকারি স্কুলের মালিক সুনীল সিং বলেন, ‘বহু বছর এই স্কুল চলছে। আগে স্কুলকে ভাড়াও দেওয়া হতো। কয়েক বছর স্কুল ভাড়া নিচ্ছে না।’ কিন্তু সরকারি জায়গায় কীভাবে প্রাইভেট স্কুল চলে? সুনীল সিং বলেন, ‘আগে থেকেই রেজোলিউশন করে স্কুল চলছে। এতে কোনও অনিয়ম নেই।’ স্থানীয় কাউন্সিলার গৌর জানা বলেন, ‘পঠনপাঠনের স্বার্থে আমি স্কুল কর্তৃপক্ষকে দ্রুত সমস্যা মেটাতে বলেছি।’ বরানগর পুরসভার সিআইসি রামকৃষ্ণ পাল বলেন, ‘এ বিষয়ে অবিলম্বে শিক্ষাদপ্তরের পদক্ষেপ করা উচিত।’ 
  • Link to this news (বর্তমান)