অনুপ্রবেশ তত্ত্ব খারিজ কমিশনের তথ্যে, কোথায় এক কোটি বাংলাদেশি-রোহিঙ্গা? রাজ্যে লাগাতার কমেছে নতুন ভোটার
বর্তমান | ০৭ জানুয়ারি ২০২৬
শুভঙ্কর বসু, কলকাতা: অনুপ্রবেশকারীতে নাকি ছেয়ে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ! এক কোটি বাংলাদেশি-রোহিঙ্গা ঢুকে পড়েছে ভোটার তালিকায়! এসআইআর শুনানির শেষ পর্বে পৌঁছে প্রশ্ন একটাই—কোথায় এক কোটি অনুপ্রবেশকারী? আর ভোটার তালিকার সংশোধনীতে যদি বিশ্বাস নাও হয়, নির্বাচন কমিশনেরই তথ্য কিন্তু চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে, গোটাটাই আকাশকুসুম প্রচার। পরিসংখ্যান বলছে, গত এক দশকে বাংলায় নতুন ভোটার নথিভুক্তির সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে অর্ধেকেরও কম। কোটি খানেক অনুপ্রবেশকারী এই পর্বে বাংলায় ‘আশ্রয়’ পেলে যা কোনওমতেই সম্ভব হত না।
পশ্চিমবঙ্গে ‘অনুপ্রবেশ তত্ত্ব’ কেন্দ্রের শাসক বিজেপির অন্যতম রাজনৈতিক ইস্যু। রাজ্যে এসে বরাবরই এই তত্ত্বে শান দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি থেকে অমিত শাহ। শুধু তাই নয়, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনেও ‘ঘুসপেট’ বিজেপির বড় ইস্যু। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের তথ্যে উঠে এসে এসেছে রীতিমতো উলটো চিত্র। তথ্য বলছে, ২০১৪ সালে রাজ্যের মোট ৩২ লক্ষ ২৯ হাজার ৬৫২ জন নতুন ভোটার সংযুক্ত হয়েছিলেন ভোটার তালিকায়। আর ২০২৪ সালে সংখ্যাটা কমে দাঁড়িয়েছে মোট ১৪ লক্ষ ৩০ হাজার ৯৯৮ জন নতুন ভোটারে। এছাড়াও তথ্য ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে, ২০১৪ সালের পর থেকে নতুন ভোটার সংযুক্তির সংখ্যা উত্তোরোত্তর কমেছে। আরও স্পষ্ট করে বলতে গেলে ২০২০ সালের পর থেকে সংখ্যাটা প্রতি বছর নেমেছে উল্লেখযোগ্য হারে।
আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হবে এসআইআরের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। এর মাঝেই নতুন ভোটার সংযুক্তি নিয়ে উঠে আসছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। নতুন ভোটার হিসাবে অন্তর্ভুক্তির জন্য ফর্ম ৬ আবেদনপত্রের সংখ্যা আশনুরূপ নয়। কমিশন সূত্রে খবর, গত ১৬ ডিসেম্বর ২০২৬ নির্বাচনের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে পর্যন্ত ৩ লক্ষের কিছু বেশি নতুন ভোটারের আবেদন জমা পড়েছিল। মঙ্গলবার পর্যন্ত আরও ২ লক্ষ ৬ হাজার ২৩৭টি আবেদন জমা পড়েছে। ফলে সব মিলিয়ে সংখ্যাটা সাড়ে ৫ লক্ষের মতো। আগামী ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত নাম অন্তর্ভুক্তি অথবা বাদ দেওয়ার আবেদন করা যাবে। কিন্তু এ পর্যন্ত যে সংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে, তা ২০২৪ সালের অন্তর্ভুক্তির সংখ্যার নিরিখে অনেক কম বলেই মনে করছেন কমিশন কর্তারা।
ফলে স্বাভাবিকভাবেই কমিশনের তত্ত্বেই পত্রপাঠ খারিজ হয়ে যাচ্ছে বাংলায় ‘অনুপ্রবেশ তত্ত্ব’। কারণ বিজেপির দাবি মানলে গত দশ বছরে ধারাবাহিকভাবে নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তি কমে যাওয়ার কথা নয়। তাও অবশ্য সীমান্তবর্তী বাংলায় অনুপ্রবেশ তত্ত্বে শান দিয়েই ভোট বৈতরণী পার হতে চায় তারা। প্রয়োজন হলে এই তত্ত্ব প্রতিষ্ঠায় সোনালি বিবিদের পুশব্যাকটাই হবে ‘নিয়ম’।