• দু’মাসের ‘কথা’ দিয়ে ১৪ মাস দখল ট্যাংরার চাইনিজ স্কুল! হাইকোর্টে কর্তৃপক্ষ
    বর্তমান | ০৭ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কথা ছিল মাস দু’য়েকের, সেটাই এখন হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪ মাস। ট্যাংরায় রাজ্যের একমাত্র চাইনিজ স্কুল (পেই মে চাইনিজ) এতদিন ধরে দখল করে আছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। এই অভিযোগ তুলে রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে বেসরকারি স্কুল কর্তৃপক্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। জানা গিয়েছে, আদালত রাজ্যের কাছ থেকে হলফনামা চেয়েছে।

    ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট। আরজি কর হাসপাতালে অভয়ার ধর্ষণ ও মৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড় হয়েছিল গোটা রাজ্য। সেই ঘটনার পর হাসপাতালে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার নির্দেশ দিয়েছিল দেশের শীর্ষ আদালত। এরপর রাজ্য সরকার দুই কোম্পানি সিআইএসএফ নিরাপত্তারক্ষীর থাকার জন্য ট্যাংরা অঞ্চলের এই স্কুলটিকে বেছে নেয়। কারণ হিসেবে জানা গিয়েছিল, এই বেসরকারি স্কুলে পঠন-পাঠন নিয়মিত হয় না। যদিও স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, এই স্কুলে চাইনিজ সম্প্রদায়ের মানুষের বিবাহ থেকে শুরু করে অন্যান্য নানা ধরনের অনুষ্ঠান হয়। চীনা সম্প্রদায়ের মনিকা লিউ বলেন, ‘তখন রাজ্যের তরফে বলা হয়েছিল দু’মাসের জন্য স্কুল নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু প্রায় ১৪ মাস হয়ে গেলেও সিআইএসএফকে সরানো হয়নি। এতদিন আটকে রাখায় অসুবিধা হচ্ছে।’ পাশাপাশি মনিকা লিউ সংবাদমাধ্যমে দাবি করেছেন, বাহিনী থাকার পরও কোনও ভাড়া দেওয়া হচ্ছে না। এমনকী বিদ্যুতের বিলও দেওয়া হয় না। তাঁর কথায়, ‘প্রথম দিকে ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। তারপর থেকে এতদিন কোনও টাকা দেওয়া হয়নি। এভাবে কতদিন চালানো সম্ভব?’ এ কথা বলে ক্ষোভ উগড়ে দেন তিনি।  এই পরিস্থিতিতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় পেই মে চাইনিজ স্কুল কর্তৃপক্ষ। চীনা সম্প্রদায়ভুক্তদের অভিযোগ, একাধিকবার আবেদন নিবেদন করেও কোনও কাজ হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে আদালতে মামলা করা হয়েছে। রাজ্য যাতে অবিলম্বে স্কুল ছেড়ে দেয়, সিআইএসএফ’কে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়, এই মর্মে হাইকোর্টের দ্বারস্থ স্কুল কতৃর্পক্ষ। জানা গিয়েছে, কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চে মামলা উঠেছিল। দু’মাসের জন্য স্কুল নেওয়ার নাম করে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কেন স্কুল আটকে রাখা হয়েছে, তা জানতে চেয়ে আগামী ১৪ জানুয়ারি রাজ্যকে নিজের স্বপক্ষে নথি পেশ করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি। পাশাপাশি রাজ্যকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের কপিও আনতে বলা হয়েছে। নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)