‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’: মিলেছে ২৭২ কোটি টাকা, কাজের গতি বাড়াতে রিভিউ বৈঠক পুরসভায়
বর্তমান | ০৭ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ কর্মসূচি থেকে যেসব কাজ করা হবে বলে ঠিক হয়েছে, সেই কাজের গতি বাড়াতে উদ্যোগী হল পুরসভা। যে যে কাজগুলি অনুমোদিত হয়েছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তার ওয়ার্ক অর্ডার দিয়ে দিতে হবে। মঙ্গলবার কলকাতা পুরসভায় এনিয়ে রিভিউ বৈঠক করেন পুর কমিশনার সুমিত গুপ্তা। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, আলো, জঞ্জাল সাফাই ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিকাশি, উত্তরণ (বস্তি) উন্নয়ন সহ সংশ্লিষ্ট সবক’টি বিভাগের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। পুরসভা সূত্রে খবর, ইতিমধ্যে এই কাজের জন্য পুরসভার হাতে এসেছে ২৭২ কোটি টাকা। তারপরই তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
কলকাতায় ১৪ হাজারের বেশি কাজ নথিভুক্ত হয়েছে ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ কর্মসূচি থেকে। প্রথম দিকে দফায় দফায় প্রায় ৫২ কোটি টাকা হাতে পেয়েছিল পুরসভা। তা দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় নতুন রাস্তা, কোথাও পানীয় জলের কল, কোথাও আবার লাইট লাগানোর কাজ হয়েছে। সব থেকে বেশি কাজ হচ্ছে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ তথা বরো স্তরে। কিন্তু পর্যাপ্ত বরাদ্দ না আসায় এবং দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়া না হওয়ায় বড় অংশের কাজে হাত দিতে পারছিল না পুরসভা। সম্প্রতি প্রায় ২২০ কোটি টাকা পুরসভাকে দিয়েছে রাজ্য। তাই এবার কাজে গতি বাড়াতে চাইছে পুর কর্তৃপক্ষ। আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, বুথ পিছু বরাদ্দ ১০ লক্ষ টাকা। ফলে ছোটো ছোটো ফাইল বানিয়ে টেন্ডার করতে হচ্ছে। এত কম অঙ্কের টাকার কাজের অভিজ্ঞতা সেই অর্থে কর্মী-অফিসারদের নেই। ফলে ফাইল তৈরি করতেই বেশ কিছুটা সময় লাগছে। সেই সঙ্গে রাজ্যের তরফে সিংহভাগ বরাদ্দও এতদিন হাতে আসছিল না। এক আধিকারিক বলেন, ‘কোথাও যে এই কর্মসূচির অন্তর্গত কাজ শুরু হয়নি, এমনটা নয়। খুব বেশি হলে ২৫-৩০টি কাজ শেষ হয়েছে। আরও প্রায় ১০০টি কাজ চলছে। কিন্তু সংখ্যাটা কয়েক হাজার। এবার বড় অংশের বরাদ্দ হাতে আসায় কাজ আরও গতি পাবে। সব মিলিয়ে কলকাতা পুর এলাকাতেই প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার কাজ হওয়ার কথা।’
বৈঠক সূত্রে খবর, কমিশনার আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে যতটা সম্ভব ওয়ার্ক অর্ডার দিয়ে ফেলতে হবে। আগামী এক মাসের মধ্যে সমস্ত কাজ শেষ করতে হবে। কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহে বিধানসভা নির্বাচন ঘোষণা হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে কলকাতা পুর-অঞ্চলে এই কর্মসূচির কাজগুলি যতটা সম্ভব দ্রুত শেষ করতে বদ্ধপরিকর প্রশাসন। কারণ, নির্বাচন একবার ঘোষণা হয়ে গেলে আর নতুন করে কোনও কাজের ‘ওয়ার্ক অর্ডার’ দেওয়া যাবে না। তাই ভোটের আগে পাড়ায় পাড়ায় ছোটোখাটো উন্নয়নের কাজ সামলে প্রতিশ্রুতি পূরণই লক্ষ্য প্রশাসনের।