জম্মুর বৈষ্ণো দেবী মেডিক্যাল কলেজে মুসলিম পড়ুয়াদের ভর্তি ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছিল। বিক্ষোভে নেমেছিল একাধিক হিন্দু সংগঠন। এই আবহে বৈষ্ণো দেবী ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল এক্সেলেন্সের অনুমোদন বাতিল করে দিল ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন।
২০২৪ সালে ৫ ও ১৯ ডিসেম্বর নতুন মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের জন্য আবেদন চেয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে মেডিক্যাল অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড রেটিং বোর্ড (MARB)। সেই সময়ে শ্রীমাতা বৈষ্ণো দেবী ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল এক্সেলেন্সও আবেদন জানায়। প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই এবং সরেজমিনে পরিদর্শনের পরে কলেজটিকে মেডিক্যাল কলেজে উন্নীত হওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়। শুরু হয় ভর্তি প্রক্রিয়া।
কলেজের প্রথম ব্যাচে ৫০ জন পড়ুয়াকে মেডিক্যালে ভর্তির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। এই ৫০ জনের মধ্যে ৪৬ জন মুসলিম পড়ুয়া ভর্তি হন। সেই নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনগুলি দাবি করে, বৈষ্ণো দেবী তীর্থে দানের টাকায় গড়ে ওঠা এই মেডিক্যাল কলেজে কোনও মুসলিম পড়ুয়াদের ভর্তি নেওয়া যাবে না। সব সিট হিন্দু পড়ুয়াদের জন্য রাখতে হবে। এই দাবিকে সামনে রেখে জম্মু জুড়ে শুরু হয় লাগাতার বিক্ষোভ-আন্দোলন।
এ সবের মধ্যেই মঙ্গলবার MBBS কোর্স চালানোর জন্য দেওয়া লেটার অফ পারমিশন প্রত্যাহার করে নিল জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন। অর্থাৎ কলেজটি আর মেডিক্যাল কলেজ থাকল না। জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহে ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে অপর্যাপ্ত পরিকাঠামো, পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল যন্ত্রপাতির অভাব, পূর্ণ সময়ের শিক্ষক না থাকা এবং পর্যাপ্ত রেসিডেন্ট ডাক্তারের ঘাটতি অন্যতম।
অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই করতে সরেজমিনে পরিদর্শনে করেন মেডিক্যাল অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড রেটিং বোর্ডের কর্তারা। পরে তাঁরা রিপোর্টও জমা দেন। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই মেডিক্যাল কলেজের অনুমোদন বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ওই কলেজে যে সব মেডিক্যাল পড়ুয়া ভর্তি হয়েছেন, তাঁদের অন্য কলেজে স্থানান্তর করা হবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।