মসজিদের পাশে বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে গিয়ে প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়ল পুলিশ। বুধবার ভোরে দিল্লির তুর্কমান গেটের কাছে এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ছোড়ে বলে অভিযোগ। পাল্টা কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায় পুলিশও। সংঘর্ষে গুরুতর জখম হন ৫ পুলিশকর্মী। তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে র্যাফ।
দিল্লির রামলীলা ময়দানের কাছে তুর্কমান গেট এলাকায় রয়েছে শতাব্দী প্রাচীন ফয়েজ-ই-ইলাহি মসজিদ। দিল্লি বিস্ফোরণের আগে এই মসজিদেই গিয়েছিলেন মূল অভিযুক্ত উমর উন নবি। মসজিদের আশপাশে বেআইনি নির্মাণ গড়ে উঠেছে বলে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে। এই নিয়ে দিল্লি হাইকোর্টে মামলাও হয়। বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয় আদালত।
এর পরেই মঙ্গলবার মাঝরাতে বুলডোজ়ার নিয়ে হাজির হয় দিল্লি পুরসভা এবং পুলিশ। মসজিদ সংলগ্ন এলাকার অবৈধ নির্মাণ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, অভিযোগ, ভেঙে দেওয়া হয় মসজিদের একাংশও। পুলিশের দাবি, এর কিছুক্ষণের মধ্যেই এলাকা ঘিরে ফেলে আশপাশের লোকজন। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ছুড়তে শুরু করে তারা। পাল্টা কাঁদান গ্যাসের শেল ফাটায় পুলিশও। মুহূর্তের মধ্যে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা এলাকা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সকে নামানো হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ‘মৃদু বলপ্রয়োগ’ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়েছে। তবে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ার কথা অস্বীকার করেছে পুলিশ। সেন্ট্রাল রেঞ্জের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মধুর ভার্মা বলেন, ‘অবৈধ নির্মাণ ভাঙার সময়ে কিছু দষ্কৃতী পাথর ছুড়ে অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করেছিল। তবে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।’
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দিল্লি পুরসভা বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানায়, মসজিদের পরিচালন কমিটি বা দিল্লি ওয়াক্ফ বোর্ড (DWB) ওই জমির মালিকানা বা বৈধ দখলের কোনও নথি পেশ করতে পারেনি। তাই ০.১৯৫ একরের বেশি জায়গায় থাকা সমস্ত নির্মাণ ভেঙে ফেলা হবে। ওই ০.১৯৫ একর জমির মধ্যেই মূল মসজিদটিও অবস্থিত। নোটিস জারির পরে গত রবিবার এলাকা চিহ্নিত করতে গেলেও বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল পুলিশকে। তার পরে নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হয়।