অনির্বাণ ঘোষ
চার ভাইয়ের মধ্যে তিন জনই চিকিৎসক। দু'জন সরকারি ডাক্তার আর তৃতীয় জন ভারতীয় সেনার প্রাক্তন চিকিৎসক। সোমবার নোটিস পেয়ে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা 'সার'-এর শুনানিতে তাঁদের আগরপাড়ায় হাজিরা দিতে হলো মঙ্গলবার। সার-শুনানি থেকে হাওড়ার শিবপুরে বাদ পড়লেন না লোকসভার এক প্রাক্তন সাংসদও। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা সার এর জন্য শুনানিতে এ দিন হাজির হয়েছিলেন উত্তর ২৪ পরগনার আগরপাড়ার নিশ্বাস পরিবার। বৃদ্ধ, অসুস্থ, অশক্ত বাবা মায়ের সঙ্গেই এ দিন দুপুরে স্থানীয় গার্লস স্কুলে শুনানিতে নতে হাজির হয়েছিলেন ওই পরিবারের চার ভাই।
তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সজল বিশ্বাস এবং তাঁর ভাই স্বপন, তাপস ও রজত। সজল সরকারি স্বাস্থ্যকর্তা, বর্তমানে বাঁকুড়া জেলার উপ-মুখ্য স্বাস্থ্য অধিকারিক। স্বপনও সরকারি চিকিৎসক, বর্তমানে ভাটপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র মেডিক্যাল অফিসার। তাপসও চিকিৎসক, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল। তিনি এখন তেঘড়িয়ার একটি বড় বেসরকারি হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিভাগের প্রধান। আর রজত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের আধিকারিক। বাস্ত পেশাদার রোজনামচার হোন চেনে, এ দিন দুপুরে তাঁরা নথিপত্র নিয়ে শুনানি কেন্দ্রে হাজির হয়েছিলেন নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে। সঙ্গে বছর ছিয়াশির হহৃদরোগী ও পড়ে গিয়ে পাঁজর ভেঙে যাওয়া বাবা রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস এবং নম্বর চুয়াত্তরের ইসকিমিক হার্ট ডিজিজ, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তব্যাপ ও ডায়াবিটিসের রোগিণী মা শোভা বিশ্বাস।
চার ছেলেকে ব্যস্ত সময়ে কাজ ছেড়ে নথি নিয়ে হয়রান হতে হয়েছে বলে তাঁরাও ক্ষুব্ধ। এ দিকে আবার, হাওড়ার শিবপুরে সার এর শুনানিতে ডাক পড়েছে জয়নগর লোকসভার প্রাক্তন সাংসদ তরণ মণ্ডলেরও। তিনি শিবপুর এলাকার ভোটার। তাঁকেও কলেজ ঘাট রোডের শুনানি কেন্দ্রে যেতে হয়েছিল। তিনি বিস্মিত, 'প্রাক্তন সাংসদ হয়েও এখন আমাকে ভোটার তালিকায় নাম থাকার জন্য দৌড়তে হচ্ছে।' তবে আরও বিস্মিত আগরপাড়ার বিশ্বাস পরিবার। চার ভাইয়ের দাবি, তাঁরা নিয়মিত ভোট দেন, ২০০২-এর ভোটার তালিকাতেও নাম ছিল। তার পরেও কেন এই তলব।
সজনের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ পদের একটি কর্মদিবস নষ্ট হলো। তিনি বর্তমানে জেলার মা. প্রসূতি ও শিশুস্বাস্থ্যের দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁর কথায়, 'বাঁকুড়া থেকে শুধু এই দুপুরের দু' ঘণ্টার জন্য আমাকে অযথা আগরপাড়া আসতে হলো। তাঁর ভাই, ভাটপাড়ার হাসপাতালের চিকিৎসক স্বপন বলেন, 'বয়স্কদের মতোই জনস্বার্থে ব্যস্ত পেশাদারদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা থাকা উচিত সার শুনানিতে।' আর এক ভাই প্রাগস ভারতীয় সেনাবাহিনী থেকে ২০২১-এ লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে অবসর নেন। বর্তমানে তিনি কলকাতার একটি মাল্টি স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত। তাঁকেও গুরুতর অসুস্থ ও সঙ্কটজনক রোগীদের আইসিট তে ফেলে রেখে এ দিন ছুটতে হয়েছে সার-শুনানিতে। তাঁর বক্তব্য, 'জন্ম ও কাশ্মীরে সাত বছর কর্মরত থাকার সময়টুকু বাদ দিলে আমি বরাবরই ভোটাধিকার প্রয়োগ করে এসেছি। দেশের হয়ে সেনাবাহিনীতে কাজ করার পরেও আমাকে নিজের জাতীয়তা প্রমাণ করতে হবে- এতে আমি হতবাক তো বটেই, মনেও আঘাত পেয়েছি যথেষ্ট।