• কোচবিহারে জোড়া মৃত্যুতে তিরে 'SIR', রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে
    এই সময় | ০৭ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়, কোচবিহার ও হলদিবাড়ি: ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (সার)-এর আতঙ্কে একই দিনে দু'জনের মৃত্যুর অভিযোগ উঠল। সিতাই বিধানসভার ওকড়াবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের বড় ফলিমারী গ্রামে পেশায় গৃহশিক্ষক সুভাষচন্দ্র বর্মন (৪৫)-এর গলায় ফাঁস লাগানো দেহ উদ্ধার হয়। পরিবার সূত্রে খবর, তাঁর স্ত্রীর ২০০২-এর ভোটার তালিকায় অভিভাবক হিসেবে বাবার নামের জায়গায় দাদার নাম ছিল। তবে কোনও শুনানির নোটিস আসেনি। স্ত্রীকে হয়তো ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। তখন নাবালক ছেলেমেয়েদের কী হবে, দিনরাত এই চিন্তাই করতেন সুভাষ। সেই আতঙ্কেই তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন বলে দাবি পরিবারের লোকজনদের।

    পাশাপাশি মেখলিগঞ্জ বিধানসভার উত্তর বড় হলদিবাড়ি গ্রামে মলিন রায় (৫৬) নামে এক ব্যক্তি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন। 'সার' আতঙ্কে তাঁর এই পরিণতি বলে দাবি করেছে পরিবার। বড় ফলিমারী গ্রামের সুভাষ উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিলোজ়ফিতে এমএ করেছিলেন। এরপরে চাকরি না-পাওয়ায় তিনি গৃহশিক্ষকতা করতেন। বাড়িতে স্ত্রী ছাড়াও মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী মেয়ে এবং ছোট একটি ছেলে রয়েছে তাঁর। স্ত্রী সুচিত্রা রায়ের ২০০২-এর ভোটার তালিকায় অভিভাবক হিসেবে বাবা চন্দ্রকান্ত রায়ের পরিবর্তে দাদা কৃষ্ণকান্ত রায়ের নাম ছিল। সেই পরিচয় দিয়েই এ বার তিনি সারের ফর্ম ফিলাপ করেছিলেন।

    যেহেতু অভিভাবক দাদাকে দেখানো হয়েছে, তাই আগামীতে স্ত্রীর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবে, হয়তো বাংলাদেশ বা ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। সুভাষের মনে এই ভয় ঢুকে গিয়েছিল বলে পরিবারের লোকেরা দাবি করেছেন। মৃতের বাবা শশীকান্ত বর্মন বলেন, সোমবার গভীর রাত থেকে ছেলে নিখোঁজ ছিল। প্রায় দু'ঘণ্টা খোঁজাখুঁজির পরে রাত তিনটে নাগাদ বাড়ির পিছনে ঝুলন্ত অবস্থায় ওর দেহ উদ্ধার হয়।' এই মৃত্যু নিয়ে কোচবিহারে তৃণমূলের সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া বলেন, 'এই অকাল মৃত্যুর পিছনে নির্বাচন কমিশন দায়ী।'

    বিজেপি বিধায়ক মালতি রাভা রায় বলেন, 'যে কোনও মৃত্যুর সঙ্গেই রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে সারকে যুক্ত করে দিচ্ছে তৃণমূল।' এ দিকে মেখলিগঞ্জ বিধানসভা এলাকার উত্তর বড় হলদিবাড়ি গ্রামের ১৩২ নম্বর বুথের মলিন রায় (৫৬) সার আতঙ্কে মারা গিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। ২০০২-এর ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ছিল না। কোনও লিঙ্ক দেখাতে পারেননি। শুনানিতে ডাক এসেছিল। ৩০ ডিসেম্বর শুনানিতে হাজির হন তিনি। কিন্তু প্রয়োজনীয় সব নথি দেখাতে না পারায় মানসিক অবসাদে ছিলেন। মঙ্গলবার ভোরে হৃদরোগে আক্রান্ত হন মলিন। প্রথমে তাঁকে হলদিবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় জলপাইগুড়ি মেডিক্যালে রেফার করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার তাঁর মৃত্যু ঘটে। দুই সন্তানের পিতা পেশায় টোটোচালক মলিন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন। ঘটনার খবর পেয়ে মৃতের বাড়িতে আসেন মেখলিগঞ্জের তৃণমূলের বিধায়ক পরেশচন্দ্র অধিকারী। তিনি বলেন, 'মলিনের মৃত্যুর জন্য দায়ী সার।' তার মৃত্যুর প্রতিবাদে আন্দোলনে নামা হবে বলে জানান তিনি।

  • Link to this news (এই সময়)