• রুপোর দাম ২ লক্ষ পেরিয়েছে, মগরাহাটে কাজ বন্ধ কারখানায়
    বর্তমান | ০৭ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: রুপোর দাম দু’লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় কাজ একেবারেই বন্ধ মগরাহাট ২ নম্বর ব্লকের একাধিক গ্রামের রুপোর কারখানায়। ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ী ও কারিগররা পেটের তাগিদে বিকল্প কাজ করার চিন্তাভাবনা শুরু করেছেন। আদৌ এই পরিস্থিতি বদলাবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয়ে তাঁরা।

    এদিকে, কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন ওই ব্যবসায়ী ও কারিগররা। তাই দিনমজুর কিংবা রংয়ের মিস্ত্রির কাজে যুক্ত হতে চাইছেন অনেকেই। তাঁদের একটাই বক্তব্য, রোজগার না করলে খাব কী! তার জন্যই এখন বিকল্প কর্মসংস্থানের কথা ভাবতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, যে রুপোর দাম একসময় ৪০-৫০ হাজারের কাছাকাছি ঘুরে বেড়াতো, সেটাই বাড়তে বাড়তে দু’লক্ষ ছাড়িয়েছে। পুজোর মুখে এক লক্ষের গণ্ডি পেরিয়েছিল। তখনই কাজ অনেকটা কমে গিয়েছিল। কিন্তু এখন নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে রুপোর দাম। ফলে মহাজনদের থেকেও অর্ডার আসছে না। তাই কোনও কাজ নেই। কারখানা একবারে স্তব্ধ। সংসার কীভাবে চলবে, সেটাই এখন প্রশ্ন।

    সূত্রের খবর, মগরাহাট ২ ব্লকের মৌখালি, গোপীনাথপুর, হেরিয়া, রত্না, আলিদা, বারমৌখালি, হোটর ইত্যাদি গ্রামে বহু পরিবার রুপোর কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত। কেউ ৪০ বছর, কেউ ৩০ বছর ধরে কারিগরের কাজ করছেন। অশোক মণ্ডল, সৌমেন হালদার, উত্তম হালদার, দিলীপ কর নামে সেই সব মানুষ এখন অথৈ জলে পড়েছেন। সরকার যাতে এই কঠিন পরিস্থিতে তাঁদের পাশে দাঁড়ায়, সেই আবেদন করেছেন এই কারিগর ও ব্যবসায়ীরা। দি মগরাহাট সিলভার ফিলিগ্রি ক্লাস্টার ডেভেলপমেন্ট ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল কোঅপারেটিভ সোসাইটির চেয়ারম্যান তাপস মণ্ডল বলেন, রুপোর দাম যেভাবে বেড়ে চলেছে, তাতে আগামী দিনে ছোট ব্যবসায়ীদের কাজ পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে। এখনই তাঁরা বিকল্প পেশায় যেতে পা বাড়িয়ে আছেন। না হলে সংসার চলবে না।
  • Link to this news (বর্তমান)