পূর্ব মেদিনীপুরের গয়না বড়ির ব্র্যান্ডিং, প্যাকেজিং, ফ্যাসাই লাইসেন্স পেতে উদ্যোগী জেলা পরিষদ
বর্তমান | ০৭ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: বিউলির ডাল, পোস্ত আর বিভিন্ন মশলার মিশ্রণে গয়নার মতো সূক্ষ্ম নকশাবিশিষ্ট বড়ি হল ‘গয়না বড়ি’। দেখতে ভীষণ সুন্দর। খেতেও ভারী সুস্বাদু। পূর্ব মেদিনীপুরের দৃষ্টিনন্দন এই গয়না বড়ির ব্র্যান্ডিং, প্যাকেজিং, মার্কেটিং এবং ফ্যাসাই লাইসেন্সের জন্য এবার উদ্যোগী হল জেলা পরিষদ। জেলা পরিষদের মাধ্যমে একটি টিম তৈরি করে গয়না বড়ির তথ্যচিত্র সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার ওই টিম রামনগরে গিয়েছিল। বুধবার খেজুরি এবং তারপর মহিষাদলে ওই টিম পৌঁছে যাবে। বাড়ির মা-ঠাকুমাদের হাতে তৈরি এই গয়না বড়ির স্ট্যাটাস বাড়িয়ে তার বিপণনের উদ্যোগী হয়েছে জেলা পরিষদ।
এনিয়ে অতিরিক্ত জেলাশাসক(জেলা পরিষদ) মানস মণ্ডল বলেন, পূর্ব মেদিনীপুরের গয়না বড়ির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। শীত পড়লেই এখানে গয়না বড়ি তৈরি হয়। সেই বড়ি বিপণনের ঠিকঠাক ব্যবস্থা নেই। তাছাড়া, প্যাকেজিং ব্যবস্থাও যথাযথ নয়। নেই ব্র্যান্ডিংও। আমরা এখানকার গয়না বড়ির ফ্যাসাই লাইসেন্স থেকে শুরু করে উপযুক্ত প্যাকেজিং, ব্র্যান্ডিং এবং মার্কেটিংয়ের ব্যবস্থা করতে চাই। সেই লক্ষ্যে তথ্যচিত্র সংগ্রহ করার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা শুরু হবে।
অনেক আগে থেকে মা-ঠাকুমাদের হাতে প্রাণ পেত এই বড়ি। জিআই স্বীকৃতি নিয়ে অনেক লড়াই হলেও তা জোটেনি। কিন্তু তাতে কোনও আক্ষেপ নেই। গয়না বড়ি পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরের একান্ত নিজস্ব হিসেবে পরিচিত। নকশায় সমৃদ্ধ এই খাদ্য উপাদান মা-ঠাকুমাদের যত্ন আর নৈপুণ্যে শিল্প হয়ে ওঠে। রবীন্দ্রনাথ থেকে সত্যজিৎ রায়ের মতো মনীষীরাও এর গঠন দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন। তমলুক, নন্দকুমার, মহিষাদল, হলদিয়া, নন্দীগ্রাম, খেজুরি সহ পূর্ব মেদিনীপুরের নানাপ্রান্তে কয়েক প্রজন্ম ধরে বাড়ি বাড়ি এই বড়ি তৈরি হয়। গয়না বড়িতে হরেকরকম নকশা থাকে। তাই একে নকশা বড়িও বলে। এটি দুই মেদিনীপুরের ঐতিহ্যবাহী এবং দৃষ্টিনন্দন খাদ্য। ভাতের সঙ্গে খাওয়া হয়।
শীতের সময় এই বড়ি বানিয়ে অনেক মহিলা স্বনির্ভর হন। বহু স্বনির্ভরগোষ্ঠী গয়না বড়ি বানিয়ে বিভিন্ন মেলা, উৎসবে স্টল দেন। কিন্তু বিপণনের সঠিক ব্যবস্থা না থাকায় সমস্যা হয়। মহিষাদল প্রতিবন্ধী মনোবিকাশ কেন্দ্রের আবাসিকরা প্রতিবছর শীতের মরশুমে গয়না বড়ি তৈরি করেন। মঙ্গলবার অতিরিক্ত জেলাশাসক(জেলা পরিষদ) ওই কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত বরুণ পাণ্ডেকে ফোন করে সেখানেও টিম পাঠানোর কথা জানান। ওই কেন্দ্রের আবাসিক মামনি পাল, সাবিত্রী প্রধান সহ আরও অনেকে গয়না বড়ি বানান। তারপর ট্রাই-সাইকেলে চেপে সেগুলি দোকানে সাপ্লাই দেন। মামনি, সাবিত্রীরা বলেন, অনেকেই মার্কেটিংয়ের জন্য গয়না বড়ি বানান। জেলা পরিষদের এই উদ্যোগ তাঁদের জন্য ভীষণ সুবিধাজনক হবে।
ফ্যাসাই লাইসেন্সযুক্ত গয়না বড়ির স্বাস্থ্যসম্মতভাবে প্যাকেজিং এবং ব্র্যান্ডিং হলে গোটা দেশে এর প্রচার ও বিপণনে অনেক সুবিধা হবে। এই সুবিধার কথা মাথায় রেখে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ এমন উদ্যোগ নিয়েছে। এই পদক্ষেপকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন গয়না বড়ি তৈরির সঙ্গে যুক্ত শিল্পীরা।