বিধির প্রশ্ন তুলে রাজ্য পুলিশের স্থায়ী ডিজি পদে নিয়োগের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রস্তাব ফেরত পাঠাল কেন্দ্র। সুপ্রিম কোর্টের প্রকাশ সিংহ মামলার রায় উল্লেখ করে সম্প্রতি ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (ইউপিএসসি) লিখিত ভাবে মুখ্যসচিবকে বলে দিয়েছে, ডিজি পদে নতুন নামের প্রস্তাব বিধিসম্মত সময়ে রাজ্য পাঠায়নি বলেই তা ফেরত পাঠানো হয়েছে। রাজ্য চাইলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে পারে।
প্রসঙ্গত, গত নভেম্বরের শেষে ইউপিএসসির বিরুদ্ধে সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনাল (ক্যাট)-এ মামলা করেছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি পদমর্যাদার আইপিএস রাজেশ কুমার। অভিজ্ঞ আধিকারিকদের একাংশের মতে, ইউপিএসসি-র এই অবস্থানে রাজ্য পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ডিজি রাজীব কুমারের স্থায়ী ডিজি হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটা ধাক্কা খেল। এই মাসের শেষেই অবসর নেওয়ার কথা রাজীবের।
সাম্প্রতিক চিঠিতে ইউপিএসসি জানিয়েছে, ২০১৮ সালে প্রকাশ সিংহ মামলায় সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল, কোনও রাজ্যের ডিজির অবসরের অন্তত তিন মাস আগে নতুন স্থায়ী ডিজির নামের প্রস্তাব পাঠাতে হবে। এ রাজ্যে আগের স্থায়ী ডিজি মনোজ মালবীয় তাঁর দু’বছরের মেয়াদ শেষ করে অবসর নিয়েছিলেন ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে। ফলে অন্তত ওই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে নতুন স্থায়ী ডিজি নিয়োগের জন্য অফিসারদের নামের প্রস্তাব পাঠাতে হত রাজ্যকে। কিন্তু রাজ্য তা পাঠিয়েছিল ২০২৫ সালের জুলাই মাসে, যা বিধিবদ্ধ সময়ের তুলনায় দেড় বছরেরও পরে।
এই বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ-কমিটি সবিস্তার আলোচনা করে। দেশের অ্যাটর্নি জেনারেলের মতামতও চেয়ে পাঠানো হয়। তাতে অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছেন, নতুন নাম পাঠাতে পশ্চিমবঙ্গ খুব বেশি দেরি করেছে। সব আইন এবং বিধি খতিয়ে দেখে বোঝা যাচ্ছে, এটা মেনে নিয়ে তা গ্রহণ করা ইউপিএসসি-র পক্ষে সম্ভব নয়। রাজ্য সরকার চাইলে সুপ্রিম কোর্টের থেকে ব্যাখ্যা বা সমাধান চাইতে পারে। এই সূত্রে ইউপিএসসি-ও রাজ্যকে জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট নামের প্রস্তাব বা প্যানেল ফেরত পাঠানো হচ্ছে, দরকারে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সুপ্রিম কোর্টের মতামত নিক। রাজ্যের পাশাপাশি চিঠির প্রতিলিপি পাঠানো হয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিবকেও। প্রসঙ্গত, রাজ্য প্রশাসনিক সূত্রের খবর, প্রাথমিক ওই প্যানেলে রাজীব কুমার ছাড়াও নাম ছিল রাজেশ কুমার, রণবীর কুমারের মতো অফিসারদের।
অন্য দিকে, ক্যাটে মামলা করে রাজেশ কুমার দাবি করেছিলেন, ২০২৩ সালে ডিসেম্বরে তৎকালীন ডিজি মনোজ যখন অবসর নিয়েছিলেন, তখন তাঁর-সহ রাজীব এবং রণবীরের চাকরির মেয়াদ অনেক বেশি ছিল। আবেদনে আরও বলা হয়েছিল, ডিজিপি নিয়োগের জন্য গত জুলাই মাসে ১০ জন ডিজি ও এডিজি পদমর্যাদার অফিসারের নাম রাজ্য সরকার পাঠায় ইউপিএসসিকে। কিন্তু অভিযোগ, গত ৩০ অক্টোবর ইউপিএসসি তিন জনের নাম বাদ দেয়। কারণ হিসেবে বলা হয়, ওই তিন অফিসারের ৬ মাসও চাকরি বাকি নেই। তাঁকে ডিজিপি হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে ক্যাটে অভিযোগও করেন রাজেশ কুমার। তবে ইউপিএসসি ফাইল ফেরত পাঠিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে বলায় রাজ্যের সমস্যা আরও বাড়ল।