• ৭ বছর আগের ঘটনায় বিশেষভাবে সক্ষম তরুণীর বয়ানেই ধর্ষককে সাজা দিল কোর্ট
    এই সময় | ০৭ জানুয়ারি ২০২৬
  • বিশেষভাবে সক্ষম তরুণীর বয়ানেই ভরসা রাখলেন বিচারক। তাঁর বয়ানের উপরে ভিত্তি করেই ৭ বছর আগের ধর্ষণের ঘটনায় সাজা শোনাল মহারাষ্ট্রের ফৌজদারি আদালত। এই রায়ের পিছনে রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের একটি পর্যবেক্ষণ। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, কোনও ব্যক্তি বিশেষভাবে সক্ষম বলেই যে তাঁর বয়ান দুর্বল বা অগ্রহণযোগ্য, তা বলা যাবে না। সেই পর্যবেক্ষণের উপর ভিত্তি করেই ফৌজদারি আদালত বিশেষভাবে সক্ষম তরুণীকে ধর্ষণের দায়ে ৩৫ বছর বয়সি এক ব্যক্তিকে ১০ বছরের কারাবাসের নির্দেশ দিয়েছে।

    ঘটনার সূত্রপাত বছর ৭ আগে। ২০১৯ সালের ২৯ এপ্রিল। তখন লোকসভা ভোট চলছে মহারাষ্ট্রে। বাড়ি ফিরে পরিবারের লোকজন দেখেন, তাঁদের বিশেষভাবে সক্ষম মেয়ে উধাও। কিছুক্ষণ পরে বছর ২৫-এর তরুণী কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফেরেন। পরিবারের লোকজনকে জানান, বাড়ির পাশের একটি নির্জন রাস্তায় তিনি খেলছিলেন। সেই সময়ে এক ব্যক্তি তাঁর হাত ধরে জোর করে টেনে নিয়ে যায় তার বাড়িতে। তাকে মেঝেতে ফেলে দিয়ে ছুরি দিয়ে খুন করার ভয় দেখায়। এরপরে তাঁর মুখে বালিশ চাপা দিয়ে তাঁকে ধর্ষণ করে। তরুণী আরও জানান, প্রমাণ লোপাটের জন্য সাবান দিয়ে তাঁকে স্নান করিয়ে দেয় অভিযুক্ত।

    পুলিশ জানায়, থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে এক সেলুনের কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলা চলাকালীন মোট ১৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে আদালত। অবশেষে মঙ্গলবার অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বছরের সশ্রম কারাবাসের নির্দেশ দেন ফৌজদারি আদালতের বিচারক সুরেখা এ সিনহা। ধর্ষণ, বিশেষভাবে সক্ষমদের প্রতি অপরাধ-সহ একাধিক ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে অভিযুক্তকে।

    এই রায়কে বিশেষভাবে সক্ষমদের অধিকার সংক্রান্ত আইনের অধীনে দেওয়া রায়গুলির মধ্যে বিরল বলে আখ্যা দিয়েছে আইন বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ। মামলা চলাকালীন তরুণীর ডাক্তারি পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে তাঁর মধ্যম মাত্রার অক্ষমতা রয়েছে। ধর্ষণের সময়ে তরুণীর বয়স ২৫ বছর হলেও তাঁর মানসিক বয়স ছিল ৬ বছর এবং IQ বা বুদ্ধিমত্তার মাত্রা ছিল ৩৬।

  • Link to this news (এই সময়)