খাস কলকাতার পার্টিতে তরুণীকে ধর্ষণ! পুলিশের জালে ‘বন্ধু’
প্রতিদিন | ০৭ জানুয়ারি ২০২৬
অর্ণব আইচ: ফের খাস কলকাতায় লালসার শিকার তরুণী! বন্ধুর বাড়িতে পার্টিতে ডেকে নিয়ে এসে কলেজছাত্রী এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ। এই ঘটনায় ওই তরুণীরই এক ‘বন্ধু’কে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশের সূত্রে খবর, পূর্ব কলকাতার আনন্দপুর এলাকায় ঘটেছে এই ঘটনাটি। ধৃত ওই তরুণের নাম কৌশিক মণ্ডল। তার আসল বাড়ি বীরভূমের মহম্মদবাজারে। দক্ষিণ কলকাতার একটি কলেজের ছাত্র ছিল সে। গত বছরই কলেজ থেকে পাস করে। কলেজে পড়ার সময়ই নির্যাতিতার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ওই ছাত্রী উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের বাসিন্দা। তিনি এখনও ওই কলেজের ছাত্রী। পরিচয় থাকার সুযোগে ওই তরুণীর সঙ্গে অভিযুক্ত তরুণের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। সেই সূত্র ধরে কয়েক মাস আগে ওই তরুণী তার কলেজের বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দপুর এলাকার একটি বাড়িতে পার্টিতে যান। বাড়িটিতে ভাড়া থাকেন তাঁদেরই এক বন্ধু। ওই পার্টিতে উপস্থিত ছিল অভিযুক্ত যুবক কৌশিকও। বর্তমানে কৌশিক একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকুরিরত। এ ছাড়াও তার পারিবারিক ব্যবসা রয়েছে।
জানা গিয়েছে, প্রায় সারারাত ধরেই ওই পার্টিতে মদ্যপান চলে। এমনকী, ঠান্ডা পানীয়র সঙ্গে মিশিয়ে ওই তরুণীকে নেশাগ্রস্তও করানো হয় বলে অভিযোগ। তরুণীর অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁদের অন্য বন্ধুরা অন্য ঘরে ছিলেন। ওই তরুণ তাঁকে আলাদা একটি ঘরে নিয়ে যায়। সেখানেই ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। জানা যাচ্ছে, প্রথমে অভিযুক্ত তরুণ তাঁকে বিষয়টি চেপে যাওয়ার জন্য হুমকি দেয়। কিন্তু বাড়িতে ফিরে এসে অসুস্থ বোধ করতে থাকেন অভিযোগকারিণী। তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। আতঙ্কিতও হয়ে পড়েন। ক্রমে অভিভাবকদের কাছে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। ঘটনাটি খুলে বলেন। প্রথমে বারাসত পুলিশ জেলায় অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু ঘটনাস্থল যেহেতু আনন্দপুর এলাকায়, তাই বারাসত জেলা পুলিশ থেকে এফআইআরটি আনন্দপুর থানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তারই ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ধর্ষণের অভিযোগে কৌশিককে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তাকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যাবে পুলিশের টিম।
এদিকে, অন্য একটি ঘটনায় যাদবপুরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করল দক্ষিণ কলকাতার যাদবপুর থানায় পুলিশ। ধৃত ব্যক্তির নাম হরশল কালরা। যাদবপুরের একটি অভিজাত বহুতল আবাসনের ওই বাসিন্দার সঙ্গে সোশাল মিডিয়ায় এক যুবতীর পরিচয় হয়। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই যুবতীকে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গিয়ে সহবাস করে বলে অভিযোগ। ক্রমে ওই যুবতী জানতে পারেন যে, তাঁর ওই ‘বন্ধু’টি বিবাহিত ও সন্তানের বাবা। এরপরই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। যাদবপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। হরশলকে গ্রেপ্তার করে তাকে জেরা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।