• অভিষেকের সফর ঘিরে তৈরি ঠাকুরবাড়ি, সুর নরম শান্তনুর
    এই সময় | ০৭ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়, ঠাকুরনগর: শুক্রবার ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়িতে আসছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে বরণের যাবতীয় ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই সেরে ফেলেছে তৃণমূল প্রভাবিত অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘ। অভিষেকের কর্মসূচি নিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্গে বৈঠক করেন জেলা প্রশাসনের কর্তারা। বৈঠকে হাজির ছিলেন পুলিশ সুপার-সহ রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকরা। বৈঠকের শেষে অস্থায়ী হেলিপ্যাডের জন্য ঠাকুরনগর হাইস্কুল মাঠ পরিদর্শন করেন পুলিশ এবং প্রশাসনের কর্তারা।

    অভিষেকের কর্মসূচি ঘোষণার পর থেকেই তাঁকে হরিচাঁদ গুরুচাঁদের মন্দিরে ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী তথা বনগাঁর বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর। এ দিন অবশ্য সুর নামিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার শান্তনু বলেন, 'ঠাকুরবাড়িতে যে কেউ পুজো দিতে আসতে পারেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঠাকুরবাড়িতে পুজো দেবেন। আমাদের কোনও বাধা নেই। কিন্তু উনি প্রভাব দেখাতে এলেই সমস্যা হবে।' জানা গিয়েছে, অভিষেক ঠাকুরবাড়িতে পৌঁছলে শঙ্খধ্বনি আর হরিবোলে মতুয়ারা তাঁকে স্বাগত জানাবেন। পাগল, গোঁসাইরা তাঁকে মন্দিরে নিয়ে গিয়ে পুজো দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন। হরিচাঁদ, গুরুচাঁদ মন্দিরে পুজো শেষ করেই অভিষেক আসবেন প্রয়াত বড়মা বীণাপাণি ঠাকুরের মন্দির দর্শনে। সেখানে তাঁকে বাঙালি সংস্কৃতি মেনে ধান, দূর্বা দিয়ে আশীর্বাদ করবেন সঙ্ঘাধিপতি মমতাবালা ঠাকুর।

    আগামী শুক্রবার দুপুরে ঠাকুরবাড়িতে আসবেন অভিষেক। সার আবহে মতুয়া গড়ে অভিষেকের এই কর্মসূচি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। বনগাঁ মহকুমা থেকে ১ লক্ষ ২০ হাজার মতুয়াকে শুনানিতে হাজির হতে হচ্ছে। চূড়ান্ত তালিকায় নাম বাদ পড়ার আশঙ্কায় রয়েছেন মতুয়ারা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের মুখে মতুয়াদের নাম বাদ গেলেও সহ্য করে নেওয়ার বক্তব্যের পর মতুয়াদের মধ্যে বেনাগরিক হওয়ার ভয় চেপে বসেছে। এই পরিস্থিতিতে মতুয়াগড়ে এসে সার নিয়ে অভিষেক কী বার্তা দেন, সে দিকেই তাকিয়ে আছেন সাধারণ মতুয়ারা। শুক্রবার নদিয়ার তাহেরপুরের সভা থেকে ঠাকুরবাড়িতে আসবেন অভিষেক। আবহাওয়া ভালো থাকলে তিনি হেলিকপ্টারে আসবেন।

    অন্যথায় গাড়িতেই আসবেন তিনি। তাই, দু'রকম ব্যবস্থাই করা হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। ঠাকুরবাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে ঠাকুরনগর হাইস্কুল মাঠে অস্থায়ী হেলিপ্যাড তৈরি করা হচ্ছে। এ দিন বিকেলে এই সফর নিয়ে মতুয়া মহাসঙ্ঘের পদাধিকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন বনগাঁর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার দীনেশ কুমার। বৈঠকে সরকারের সমস্ত বিভাগের আধিকারিকরা ছিলেন। হেলিকপ্টারে এলে কী ভাবে এবং কোন রাস্তা ধরে অভিষেক ঠাকুরবাড়িতে পৌঁছবেন, আবার গাড়িতে এলে কোন রুট ধরে মন্দিরে আসবেন, মহাসঙ্ঘের কী পরিকল্পনা রয়েছে, তা নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা করেছেন পুলিশ এবং প্রশাসনের কর্তারা। ঠাকুরবাড়ির বিভিন্ন জায়গা, মন্দির চত্বরও পরিদর্শন করেছেন পুলিশের কর্তারা।

    তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর বলেন, 'অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমি আর মধুপর্ণা ঠাকুর রিসিভ করব। বড়মার মন্দিরে আমি ধান, দূর্বা দিয়ে তাঁকে আশীর্বাদ করব।' তৃণমূল প্রভাবিত অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের সাধারণ সম্পাদক সুকেশ চন্দ্র চৌধুরী বলেন, 'আমাদের বাড়িতে যে অতিথি আসছেন, তাঁকে যেন কোনও ভাবে অসম্মান না করা হয়, সেটাই ঠাকুর পরিবারের সকলের কাছে সংগঠনের পক্ষ থেকে বার্তা দিচ্ছি।'

  • Link to this news (এই সময়)