বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনকে SIR-শুনানির নোটিস নিয়ে মঙ্গলবার থেকেই চর্চা চলছে। নোবেলজয়ী বিশ্বভারতীর প্রবীণ এই আশ্রমিককে নোটিস ধরানো নিয়ে প্রশ্নও উঠছে, চলছে সমালোচনাও। এরই মধ্যে বুধবার সকালে তাঁর শান্তিনিকেতনের ‘প্রতীচী’ বাড়িতে হাজির BLO সোমব্রত মুখোপাধ্যায়-সহ জেলা প্রশাসনের তিন আধিকারিক। যদিও এই মুহূর্তে অমর্ত্য সেন শান্তিনিকেতনে নেই, বিদেশে রয়েছেন বলেই জানা গিয়েছে। তবে তাতে বিতর্ক থেমে নেই।
সূত্রের খবর, মঙ্গলবারই অমর্ত্য সেনকে নোটিস পাঠায় নির্বাচন কমিশন। ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’-র কারণে এই নোটিস বলে খবর। অমর্ত্য সেনের ঘনিষ্ঠ গীতিকণ্ঠ মজুমদার বলেন, ‘নোটিসে বলছে, অমর্ত্য সেনের বয়সের সঙ্গে তাঁর মা অমিতা সেনের বয়সের পার্থক্য ১৫ বছরের কম। কিন্তু অমিতা সেনের জন্ম ১৯১৪ সালে। অমর্ত্য সেনের জন্মের সময়ে তাঁর মায়ের বয়স ছিল ১৯ বছর ৬ মাস। ওরা ১৯১৪-কে ১৯১৮ করে একটা নোটিস পাঠিয়ে দিল। ওদের ভুল, অথচ অমর্ত্য সেনের মতো বিশ্ববন্দিত মানুষকে নোটিস ধরিয়ে দিল।’
আগামী ১৬ জানুয়ারি অমর্ত্য সেন বা তাঁর অনুমোদিত প্রতিনিধিকে BDO অফিসে হাজির হয়ে সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে হবে বলে খবর। এরই মধ্যে মঙ্গলবার বীরভূমে গিয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয়টি সামনে আনান। তিনি বলেন, ‘এমনই পোড়া কপাল যে অমর্ত্য সেনের মতো মানুষকেও নোটিস পাঠানো হচ্ছে। যিনি বিশ্বের দরবারে দেশকে সমৃদ্ধ করেছেন।’
এর পরেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়, নিন্দার ঝড় ওঠে। প্রবীণ আশ্রমিকদের অনেকেরই মত, নোবেলজয়ী এমন একজন মানুষকে যদি নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হয়, এর থেকে লজ্জার আর কী বা হতে পারে! বিষয়টি ভালো ভাবে নেননি সমাজের অন্যান্য স্তরের মানুষও। রাজনীতির ময়দান পেরিয়ে অমর্ত্য সেনের এই নোটিস পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা দিকে দিকে। তবে একাংশ অবশ্য বলছে, নিয়ম সকলের জন্যই এক। তাই কোনও ত্রুটি থাকলে তা খতিয়ে দেখে নেওয়ায় কোনও ভুল নেই।
এখনও অবধি এই নোটিসের কারণ স্পষ্ট করেনি নির্বাচন কমিশন। তবে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির কথা উঠে আসছে। এমনও শোনা যাচ্ছে, এই বিভ্রান্তির নেপথ্যে রয়েছে নির্বাচন কমিশনের সফ্টওয়্যার ও বাংলা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদের ত্রুটি থাকার সম্ভাবনা।