মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের ভগীরথপুরা এলাকায় ‘বিষাক্ত’ জল পান করে মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের (সরকারি হিসেবে অনুযায়ী ১০ জন)। ওই এলাকার পানীয় জল পরীক্ষা করার পরে মিলেছে ব্যাকটেরিয়াও। এর মাঝেই কেন্দ্রীয় সরকারের জল জীবন মিশনের একটি নতুন রিপোর্ট চোখ কপালে তুলে দেওয়ার মতো। এনডিটিভি-র একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, ৪ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় সরকারের ‘Functionality Assessment Report’ প্রকাশিত হয়েছে, যাতে দেখা গিয়েছে— মধ্যপ্রদেশে মাত্র ৬৩.৩% জলের নমুনা কোয়ালিটি টেস্ট-এ উত্তীর্ণ হয়েছে, যেখানে জাতীয় গড় ৭৬%। এর অর্থ হলো, রাজ্যের গ্রামীণ পানীয় জলের ৩৬.৭% নমুনা ‘নিরাপদ নয়’ বলে প্রমাণিত হয়েছে, যেগুলিতে ব্যাকটেরিয়া বা রাসায়নিক দূষণ রয়েছে।
ওই রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে মধ্যপ্রদেশের ১৫,০০০-এরও বেশি গ্রামীণ পরিবার, স্কুল, হাসপাতাল থেকে পানীয় জলের এই নমুনাগুলো সংগ্রহ করা হয়েছিল। সেই নমুনা পরীক্ষা করেই যা রিপোর্ট সামনে এসেছে, তা ভয়াবহ। সরকারি হাসপাতালগুলোর মাত্র ১২% জলের নমুনা মাইক্রোবায়োলজিক্যাল সেফটি টেস্ট-এ উত্তীর্ণ হয়েছে, যেখানে জাতীয় গড় ৮৩.১%। মধ্যপ্রদেশের প্রায় ৮৮% হাসপাতাল রোগীদের ‘নিরাপদ নয়’ এমন পানীয় জল সরবরাহ করছে।
সরকারি হাসপাতালগুলোতে মাত্র ১২% জলের নমুনা মাইক্রোবায়োলজিক্যাল নিরাপত্তা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে, যেখানে জাতীয় গড় ৮৩.১%। স্কুলগুলোতে ২৬.৭% নমুনা মাইক্রোবায়োলজিক্যাল পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। উপজাতি অধ্যুষিত জেলাগুলোতে পানীয় জল নিয়ে দুশ্চিন্তা আরও বেশি। অনুপপুর এবং ডিন্ডোরির মতো উপজাতি-অধ্যুষিত জেলাগুলোতে একটিও জলের নমুনা ‘নিরাপদ’ পাওয়া যায়নি। বালাঘাট, বেতুল এবং ছিন্দওয়ারাতে ৫০%-এরও বেশি জলের নমুনা ‘দূষিত’ ছিল বলে ওই রিপোর্টে জানানো হয়েছে।
এ বার আসা যাক, বাড়ি বাড়ি পানীয় জল সরবরাহের বিষয়ে। মধ্যপ্রদেশে মাত্র ৩১.৫% পরিবার সরবরাহকৃত পানীয় জল পায়। যা জাতীয় গড় ৭০.৯%-এর তুলনায় অনেকটাই কম। ৯৯.১% গ্রামে পাইপের মাধ্যমে জল সরবরাহ করা হয়। কিন্তু মাত্র ৭৬.৬% পরিবারের কল সচল আছে। অর্থাৎ, প্রতি চারটি পরিবারের মধ্যে একটি কল অচল। আরও খারাপ বিষয় হলো, ইন্দোর জেলায় ১০০% পরিবারে পানীয় জল সরবরাহ থাকলেও মাত্র ৩৩% পরিবার নিরাপদ পানীয় জল পায় বলে দাবি করা হয়েছে ওই রিপোর্টে।
ভগীরথপুরার ঘটনার পরে এই সঙ্কটকে জনস্বাস্থ্যের বিষয়ে ‘জরুরি অবস্থা’ বলে দাবি করেছে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জীবনের অধিকারের মধ্যে বিশুদ্ধ পানীয় জলের অধিকারও অন্তর্ভুক্ত। ফলত, পানীয় জলের কারণে এই মৃত্যুমিছিলের জন্য স্থানীয় ও রাজ্য প্রশাসনকে কোর্টের ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়েছে। আগামী ১৫ জানুয়ারি মধ্যপ্রদেশের মুখ্যসচিব অনুরাগ জৈনকে পুরো বিষয়টির রিপোর্ট নিয়ে আদালতে হাজির দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।