• ‘কুকুরের কখন কামড়ানোর মুড হবে, সেটা কেউ বলতে পারে না’, সুপ্রিম কোর্টে উঠল ছাগল-মুরগির প্রসঙ্গও
    এই সময় | ০৭ জানুয়ারি ২০২৬
  • পথকুকুরদের নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানিতে এ বার উঠে এল অন্য প্রাণীদের কথাও। আদালতের তিন বিচারপতির বেঞ্চ জানতে চাইল, সওয়াল-জবাব কেবলমাত্র পথকুকুরদের নিয়েই চলছে কেন? ‘অন্যান্য প্রাণীদের জীবনের কি কোনও দাম নেই? মুরগি, ছাগলদের জীবনের কী হবে? তাদের কি জীবনের দাম নেই?’, প্রশ্ন বিচারপতিদের। একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, আচরণ দেখে বোঝা সম্ভব নয়, কোন কুকুর কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে। আদালত বলে, ‘কেউ পশুদের মন পড়তে পারে না। কুকুররা কখন কামড়ে দেবে, তা কেউ বলতে পারে না। প্রিভেশন ইজ বেটার দ্যান কিওর।’

    বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা ও বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চে এ দিন পথকুকুর সংক্রান্ত মামলার শুনানি ছিল। সেখানে পথকুকুর নিয়ে একাধিক বিষয় উঠে আসে। শুনানি চলাকালীন এক মামলাকারী একটি ছবি আদালতে পেশ করেন। তিনি দেখান, ৯০ বছরের এক বৃদ্ধকে পথকুকুরের দল ঘিরে হামলা চালায় এবং পরে তিনি মারা যান। পথকুকুরের হামলায় কী হতে পারে, তা দেখাতে চান তিনি। আদালত তাঁকে থামিয়ে বলে, ‘এই ছবি দেখানোর কোনও প্রয়োজন নেই।’

    আক্রান্তদের তরফে আদালতে সওয়াল করা হয়, ‘মানুষ পথকুকুরদের জন্য ভোগেন। যে কোনও মূল্যেই মানবাধিকার সুরক্ষিত থাকা দরকার।’ এ প্রসঙ্গে জাপান ও আমেরিকায় আশ্রয়হীন কুকুরদের রাখার বিশেষ ব্যবস্থার উল্লেখও করেন মামলাকারী। তিনি বলেন, এই কারণে জাপানে পথকুকুরদের কোনও সমস্যা নেই। ১৯৫০ সাল থেকে কোনও rabies-এ মৃত্যুও নেই।

    মামলাকারীদের আইনজীবী কপিল সিবাল আদালতে বলেন, ‘আমরা এখানে কুকুরপ্রেমী ও পরিবেশপ্রেমী হিসেবে এসেছি।’ অন্যান্য প্রাণীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে সিবাল বলেন, ‘আমি চিকেন খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি, কারণ তাদের নির্মম ভাবে খাঁচাবন্দি করে রাখা হয়। অন্য দিকে একটি বাঘ যদি নরখাদক হয়, তা বলে সব বাঘকে নরখাদক বলে মারতে পারি না।’

    গোটা বিশ্বে যে ভাবে CSVR (Capture-Sterilise-Vaccinate-Release) মডেল মেনে চলা হয়, সে কথাও উল্লেখ করেন সিবাল। এ দিনের সওয়াল-জবাব পর্বে অন্য এক মামলাকারীর আইনজীবী বলেন, ‘আমার মক্কেল প্রবীণ নাগরিক। তিনি কুকুরের কামড় খেয়েছেন। এখানে বহু কুকুরপ্রেমী আছেন। আমরা কুকুর-বিরোধী নই, আমরা তাদের নিয়ন্ত্রণের পক্ষে।’

  • Link to this news (এই সময়)