সুমন ঘোষ, কেশিয়াড়ি
মকর স্পেশাল মিষ্টি! এই নামেই চেনে তামাম এলাকা। তার বিশেষত্ব কী? ওজনে। কারণ, এক একটি মিষ্টির ওজন ৫০০ গ্রাম থেকে প্রায় দু'কেজি। আবার অর্ডার অনুযায়ী ওজন বাড়তেও পারে। মকর সংক্রান্তির মকর পরবে এই বিশেষ মিষ্টির চাহিদা নজর কাড়ে পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়াড়িতে। কেশিয়াড়ির হাতিগেড়িয়া একটি গঞ্জ এলাকা। যার দু'দিকে বসে মকর সংক্রান্তির মেলা। আর সেই মেলায় হাজির হন বহু মানুষ। তাঁরাই বাড়িতে কিনে নিয়ে যান এই বিশালাকার মিষ্টি। হাতিগেড়িয়ার বিষ্ণুশঙ্কর বারিক বলেন, 'আমি তো মকরের আগেই কিনে বাড়িতে নিয়ে এসেছি। এই মিষ্টি যে এই সময়েই শুধু মেলে। বাড়ির সবাই পছন্দও করে।'
জঙ্গলমহলে মকর পরব একটি বড় উৎসব। পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া জুড়েই এই উৎসব পালিত হয় মহা সমারোহে। যদিও রথের সময়ে বিশেষ মিষ্টি তৈরির কথা শোনা যায়। প্রায় রাজ্য জুড়ে প্রতিটি দোকানেই তা তৈরি হলেও জঙ্গলমহলে এমন মিষ্টির কথা আগে শোনা যায়নি। মকর স্পেশাল মিষ্টি শুধু কেশিয়াড়ির হাতিগেড়িয়াতেই মেলে বলে দাবি ষাটোর্ধ্ব শচীন্দ্রনাথ দে-র। কিন্তু এর জন্মরহস্য কী? তা অবশ্য জানা নেই বর্তমান প্রজন্মের। শচীন্দ্রনাথ দে-র কথায়, 'আমরা ছোট থেকেই এই মিষ্টি দেখে এসেছি। বাবা-দাদুর কাছেও গল্প শুনেছি।'
তাঁর কথা থেকে বোঝা যায়, এই মিষ্টির রেওয়াজ এখানে নতুন নয়। যাঁরা এই মিষ্টি তৈরি করেন সেই বলরাম দে, বুল্টি দে-রা জানাচ্ছেন, এই মিষ্টি মকর স্পেশাল মিষ্টি ঠিকই, তবে বিয়ের মরশুমেও চাহিদা রয়েছে। গ্রামের মেয়ে বিয়ের পরে যখন শ্বশুরবাড়ি যান, তখন তাঁর সঙ্গেও পাঠানো হয় এই মিষ্টি। তখন অবশ্য অর্ডার অনুযায়ী তৈরি হয়। ওজনও বাড়ে। বলরাম দে-র কথায়, 'যে মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে যত বড় সাইজ়ের মিষ্টি পাঠানো হয় ততই তাঁর ইজ্জত বাড়ে। ফলে তিন-চার কেজি ওজনের এই মিষ্টিও আমরা তৈরি করে থাকি। আমরা এই মিষ্টিকে মতিচুর বলি।'
রেসিপি কী? পুরোটা না শোনালেও বলরাম যেটুকু জানালেন, তাতে বোঝা গেল, প্রথমে ঘিয়ে সেউ ভাজা হয়। তারপর চিনির রস তৈরি করা হয়। সামান্য গাওয়া ঘি, এলাচ ও অন্যান্য কিছু উপকরণ দিয়ে তৈরি করা হয় পাক। পাকের পরে লাড্ডুর আকারে বানানো হয় এই মতিচুর। মকর পরবে যা প্রতোকেই সাদরে কিনে নিয়ে যান বাড়িতে। শচীন্দ্রনাথের কথায়, 'এই মিষ্টি বাইরের কেউ দেখলেই বলে দেবে, এটা কেশিয়াড়ির মিষ্টি। কারণ, এ মিষ্টি অন্য কোথাও মেলে না।'