• অমর্ত্য সেনের বাড়িতে নির্বাচন কমিশনের উপস্থিতি!
    আজকাল | ০৭ জানুয়ারি ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: বুধবার শান্তিনিকেতনের প্রতিচী বাড়িতে নোবেলজয়ী ও ভারতরত্ন অমর্ত্য সেনের বাড়িতে সকাল সাড়ে এগারোটা নাগাদ নির্বাচন কমিশনের তিন আধিকারিক আসেন বলে জানা গিয়েছে। যদিও কমিশনের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কী কারণে তাঁরা এসেছেন তা এখনও স্পষ্ট করা হয়নি। তবে সূত্রের দাবি, এসআইআর সংক্রান্ত একটি কাজেই তাঁরা অমর্ত্য সেনের বাড়িতে গিয়েছিলেন। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে কোনও লিখিত প্রতিক্রিয়া এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

    উল্লেখ্য, এই বিষয়টি নিয়েই মঙ্গলবার রামপুরহাটের জনসভা থেকে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি বলেন —

     বিজেপি সরকার কোনও দিন মানুষের সঙ্গে মেশেনি। দাঙ্গা করে ক্ষমতায় এসেছে। ১১ বছর ধরে ক্ষমতায় রয়েছে। এসআইআর নিয়ে শুনানি চালাচ্ছে। অমর্ত্য সেনের মতো মানুষকে নোটিশ পাঠানো হচ্ছে — এদের কাছে আর কী আশা করা যায়! এরা কোনও দিন বোঝে না, মায়ের চোখের জলের দাম কী। তবে এদের ভুগতে হবে। বাংলার মানুষকে কষ্ট দিয়েছে। বাংলার মানুষের চোখের জল বৃথা যাবে না।

    কেন্দ্রের বিরুদ্ধে কথা বলেন বলেই কি অমর্ত্য সেনকে নোটিশ — এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আপনাদের মনে যখন এই প্রশ্ন এসেছে, তখন নিশ্চয়ই এই প্রশ্নের যথার্থতা আছে।

    এই প্রেক্ষাপটে বুধবার অমর্ত্য সেনের বাড়িতে নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের উপস্থিতি নতুন করে সেই প্রশ্নগুলোকেই সামনে এনে দিয়েছে। যদিও কমিশনের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা মেলেনি, তবু এদিনের ঘটনাকে ঘিরে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হওয়ার বার্তাই দিচ্ছে।

    এ প্রসঙ্গে অমর্ত্য সেনের ঘনিষ্ঠ গীতিকণ্ঠ মজুমদার বলেন, "নির্বাচন কমিশনের তরফে অমর্ত্য সেনকে আজ একটি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে অমর্ত্য সেনের সঙ্গে তাঁর মা অমৃতা সেনের বয়সের পার্থক্য ১৫ বছরের কম। সেটা ওনাদের কাছে কতটা যুক্তিযুক্ত তা আমাদের বোধগম্য নয়। সেই সময় বাল্যবিবাহ চালু থাকলেও ওদের যুক্তি একেবারেই ঠিক নয়। অমর্ত্য সেনের বর্তমানে ৯২ বছর বয়স। এই বয়সে কোনওভাবেই সরাসরি স্বশরীরে উপস্থিত থাকা সম্ভব নয়। সুতরাং তিনি কোনও প্রতিনিধি কিংবা উকিল পাঠিয়ে বিষয়টি দেখবেন। তবে যেহেতু উনি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে এর আগেও কথা বলেছেন তাই বিষয়টি প্রতিহিংসামূলক বলেই মনে হয়। না হলে অমর্ত্য সেনের মতন নোবেল জয়ী তথা ভারতরত্ন উপাধি প্রাপ্ত ব্যক্তি কে হয়রানির শিকার হতে হবে কেন?" এই ঘটনায় অত্যন্ত বিরক্ত অমর্ত্য সেনের ভাই শান্তভানু সেন। তিনি বলেন, "আধিকারিকরা এসে বলেন তথ্যে গোলযোগ আছে। তাই নোটিস রিসিভ করতে হবে। অমর্ত্য সেনের মতন প্রবীণ মানুষকে অহেতুক হয়রানি করা হচ্ছে বলে মনে করি। অমর্ত্যদা শান্তিনিকেতনে বহুবার ভোটও দিয়েছেন। তাই যেটা করা হচ্ছে সেটা মোটেই শোভনীয় নয়। আমরা অবাক হচ্ছি।"
  • Link to this news (আজকাল)