• দার্জিলিংয়ে তুষারপাত, একশ বছরের রেকর্ড ভাঙা ভিড়
    আজকাল | ০৭ জানুয়ারি ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: এ যেন চোখের সামনে সুইৎজারল্যান্ড। বরফে ঢাকা ঝাউ গাছ, বাড়িঘর থেকে শুরু করে গোটা গ্রাম, সাদা বরফের চাদরে মোড়া পাহাড়। নতুন বছরের শুরুতেই বরফে ঢেকে গেল উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং ও সিকিমের বিস্তীর্ণ এলাকা। 

    দিন কয়েক আগেই আবহাওয়া দপ্তর পূর্বাভাস দিয়েছিল, উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকায়, মূলত দার্জিলিংয়ে কনকনে ঠান্ডার সঙ্গে তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই অনুযায়ী সান্দাকফু, ফালুট, মানেভঞ্জন, সুখিয়াপকরি-সহ দার্জিলিং জেলার একাধিক এলাকায় এবং সিকিমের বিস্তীর্ণ অংশে শুরু হয়েছে তুষারপাত। 

    সান্দাকফু কার্যত বরফের চাদরে ঢেকে গিয়েছে। ঝোপঝাড়, বাড়িঘর—সবকিছুর উপরেই জমেছে সাদা বরফের আস্তরণ। সবুজ ঝাউ গাছগুলোও বরফে ঢেকে রূপ নিয়েছে ‘সাদা ঝাউ’-এ। এই মনোরম দৃশ্য ঘিরে উৎসবের মেজাজে মেতে উঠেছেন পর্যটক থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দারা। বহু পর্যটকের কাছেই এই তুষারপাত নতুন বছরের বাড়তি পাওনা। 

    সিকিম আবহাওয়া দপ্তরের অধিকর্তা গোপীনাথ রাহা জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি অঞ্চল ও গোটা সিকিমে শীতের প্রভাব বজায় থাকবে। সান্দাকফু-সহ সিকিমের আরও কয়েকটি এলাকায় নতুন করে তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি বইবে কনকনে ঠান্ডা হাওয়া। 

    কলকাতা থেকে আগত পর্যটক সাগরিকা মুখার্জি বলেন, “ঠান্ডা উপভোগ করার আশায় পাহাড়ে এসেছিলাম। তুষারপাত একেবারে বাড়তি পাওনা। প্রায় প্রতিবছরই শীতে পাহাড়ে আসি, কিন্তু গত কয়েক বছরে এমন আনন্দ পাইনি।”

    হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সম্পাদক সম্রাট সান্যাল জানান, “এবছর পাহাড়ে পর্যটকের যে আগমন, তা বিগত একশো বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে গিয়েছে। দেশ-বিদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক 'এনকোয়ারি' আসছে। আগামী প্রায় ৪০ দিন উত্তরবঙ্গের পাহাড় কার্যত হাউসফুল। পর্যটকদের অনুরোধ, আগাম বুকিং ছাড়া সরাসরি পাহাড়ে না আসাই ভাল।”
  • Link to this news (আজকাল)